চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন লাকী অাখন্দ।

সিলনিউজ২৪.কমঃ আর কখনো গাইবেন না প্রখ্যাত সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও সংগীতশিল্পী লাকী আখন্দ। আর পাওয়া যাবে না তার কালজয়ী কোন সুর। সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা এ সুরকার, সংগীত পরিচালক, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শনিবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তাকে দাফন করা হয়। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। তার আগে টানা আড়াই মাস তিনি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত সপ্তাহে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। গুণী এই সংগীত শিল্পীকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ দেশে আনা হয়। সেখানে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  দেশের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষেরাও তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এটাও ঠিক যে গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী হিসেবে তিনি কপিরাইট থেকে উপযুক্ত পাওনা পেলে কারো কাছ থেকে তার সহায়তা নেওয়ার কোন দরকারই পড়তো না। মুক্তিযোদ্ধা এই শিল্পী ও সুরকারের ‘এই নীল মনিহার’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘মামনিয়া, ‘বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’, ‘কী করে বললে তুমি’, ‘লিখতে পারি না কোনে গান, ‘ভালোবেসে চলে যেও না’– এরকম গানগুলো আশি ও নব্বইয়ের দশকে অনেক জনপ্রিয় হয়েছিল। ওই সময়ে কিছু সুন্দর গানের গায়ক ও সুরকার হিসেবে তিনি তরুণদের ওপর কতটা প্রভাব বিস্তারকারী ছিলেন তা হয়তোবা এখনকার প্রজন্ম তেমন একটা জানে না। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখান্দের অন্যতম শেষ ইচ্ছা ছিল, তার গানগুলো যেন হারিয়ে না যায়, মানুষের কাছে তা সঠিকভাবে পৌঁছায়। তার গানগুলো যেন বিকৃত করা না হয়। কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রইলো।

Facebook Comments