অবশেষে শুরু হয়েছে সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকায় হার্টের রিং বিক্রয়।

সিলনিউজ২৪.কমঃ অবশেষে শনিবার (২২এপ্রিল) থেকে হৃদরোগের চিকিৎসার আওতায় এনজিওগ্রামের সুবিধা রয়েছে এমন সব হাসপাতালে টানানো হয়েছে হার্টের রিংয়ের (করোনারি স্টেন্ট) সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যতালিকা।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কোনো হাসপাতালই এখন থেকে এই মূল্য তালিকার অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে পারবে না। বরং একই আইটেমের রিংয়ের দাম দেশের সব জায়গাতে একই রাখতে হবে। ওই তালিকায় দেখা যায় ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন আইটেমের রিং রয়েছে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গতকাল সকাল থেকেই টানানো দেখা যায় রিংয়ের মূল্যতালিকা। তালিকা দেখে কৌতূহলী হয়ে ওঠে রোগীদের স্বজনরা।

রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল ও হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে ওই তালিকার কপি লাগানো আছে। রোগীর স্বজনরা ওই তালিকা দেখছে আগ্রহ নিয়ে।

ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন বলেন, সরকারের এ উদ্যোগকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে হয়। এটা আরো আগে করলে মানুষের অনেক উপকার হতো। ১০-২০ হাজার টাকায়ও যে রিং পাওয়া যায়, এটা তো মানুষের জানাই ছিল না।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার করোনারি স্টেন্ট পরানো হয় হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে। এই রিং নিয়ে নৈরাজ্যে মেতে উঠেছিল ব্যবসায়ী চক্রসহ কিছু সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। একই রিংয়ের দাম একেক জায়গায় একেক হারে আদায় করা হতো রোগীদের কাছ থেকে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হতো। চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

রোগীদের এমন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন পরে হলেও উদ্যোগ নেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। আর ওই উদ্যোগের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রিংয়ের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার। যা নিয়ে রিং ব্যবসায়ীরা গত বুধবার কয়েক ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করেন। চলে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা।

কয়েক দিন ধরে রিং নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির পর রিং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে একের পর এক আইটেমের রিংয়ের ওপর এমআরপি অনুমোদন নেওয়া শুরু হয়। আর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এসংক্রান্ত চিঠি পাঠানো শুরু হয় হাসপাতালগুলোতে। গতকাল পর্যন্ত ৩৭টি আইটেমের রিংয়ের এমআরপি নির্ধারণ করে দেয় ঔষধ প্রশাসন। সেই সঙ্গে ওই প্রশাসনের তরফ থেকে এসংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয় ২৭টি হাসপাতালে। চিঠিতে সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে মূল্যতালিকা টানিয়ে দিতে। বাকিগুলোতেও পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, মনিটরিং টিমের সদস্যরা গতকাল বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা দেখতে পেয়েছেন চিঠি পাওয়া সবগুলো হাসপাতালেই মূল্যতালিকা টানানো হয়েছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে হার্টের কোনো রিং এখনো তৈরি হয় না। ফলে সবই আমদানি নির্ভর। এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত মোট ২১টি প্রতিষ্ঠান ৪৭টি করোনারি স্টেন্টের (রিং) রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে। আর গত ১১ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এক বৈঠকে হার্টের স্টেন্ট বা রিংয়ের মূল্য ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেগুলো এখন কার্যকর করা হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx