নিউজটি পড়া হয়েছে 23

নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় চলতে দেয়া যাবেনাঃ শিক্ষামন্ত্রী।

সিলনিউজ২৪.কমঃ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়, নিয়মের মধ্যে রাখতে চায়। তার জন্য অন্যতম শর্ত হচ্ছে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়া। আমরা সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চাপ দিচ্ছি, সময় বেঁধে দিচ্ছি। ইতিমধ্যেই ২৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করেছে। বাকিগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছাড়া সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ই স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে হলে শর্ত মেনে চলতে হবে। শর্ত পূরণ না করে কেউ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে পারবে না।’

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। সিলেট সদর উপজেলার বটেশ্বরে ৮ একর জমির উপর গড়ে ওঠছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অত্যাধুনিক স্থায়ী ক্যাম্পাস।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাসের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছি আমরা। আমি আনন্দিত, আমাদের নির্ধারিত জমির চেয়ে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি প্রায় দ্বিগুণ বেশি জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস করছে। এ ক্যাম্পাসের কাজ যে গতিতে চলছে, দ্রত তা শেষ হবে বলে আমি আশাবাদী।’

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ধনী লোকেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে একসময় মুনাফা করেছে, সার্টিফিকেট বিক্রি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সেই ধারা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার চায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন মান ও আস্থার দিক থেকে উন্নত পর্যায়ের হয়। এজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। দুই বছর তাদের পেছনে ঘুরেছি। তাদেরকে চাপ দেওয়ায় আমার উপর অনেকেই ক্ষিপ্ত হয়েছেন, কিন্তু পরে তারাই আমাদেরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।’

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাদের আস্থা জ্ঞাপন করেছেন, এটি অনেক বড় পাওয়া, তাদের জন্য বড় শক্তি। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি উদাহরণ হিসেবে দাঁড়াবে, সেই কামনা করছি।

অসৎ শিক্ষকদের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সিংহভাগ শিক্ষকই মাথার মণি। কিন্তু কিছু লোক শিক্ষক নামের কুলাঙ্গার। এরা ক্লাসের বাইরে টাকা নিয়ে পড়ায়, এরা প্রশ্নফাঁসে জড়িত। তাই তারা ধরাও পড়ছে।’

বর্ণিল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী বলেন, ‘মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি চালুর সময় আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, শিক্ষাকে পণ্য করবো না, শিক্ষা বেঁচে নিজেদের উন্নতি করবো না। আমরা আমাদের কথা রাখার চেষ্টা করেই যাচ্ছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট নয়, জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পড়াশোনা করেই ডিগ্রি অর্জন করে নেয়, সেটা নিশ্চিত করেছি আমরা। আমরা দ্রততার সাথে স্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করতে চাই। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের লালিত যে স্বপ্ন, তা এই স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর মধ্য দিয়ে পূরণ হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button