নিউজটি পড়া হয়েছে 14

রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বেকসুর খালাস।

সিলনিউজ২৪.কম: বিমানের রাডার ক্রয় দুর্নীতির মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ তিনজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিকেলে সোয়া ৪টায় ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ (মহানগর দায়রা জজ) কামরুল হোসেন মোল্লা এ রায় দেন।

এর আগে ১২ এপ্রিল যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন এরশাদ। বেলা সোয়া ৩টার দিকে এরশাদ আদালতে আসেন। এর আগে দুপুর আড়াইটায় এ মামলায় এরশাদ আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দাখিল করেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ সবাইকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলায় এরশাদ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ ও সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ । ইউনাইটেড ট্রেডার্সের অপর পরিচালক শাহজাদ আলীকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

একটি হাই-পাওয়ার এবং দুটি লো-লুকিং লেভেল রাডার কেনায় রাষ্ট্রের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকার ক্ষতির অভিযোগে ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো এ মামলা করে। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর চার্জশিট দাখিলের পরের বছর ১২ আগষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

এরপর এরশাদসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত ছিল। সাক্ষ্যগ্রহণের কোন বাধা না থাকলেও ২০০৯ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলার বাদী আলী হায়দারকে আদালতে হাজির করেনি।

প্রায় ২৫ বছর ধরে চলমান রাডার ক্রয়ে দুর্নীতির এই মামলায় ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওই বছর ১৫ মে আত্মপক্ষ শুনানিতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ সব আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। অপর দুই আসামি হলেন- সুলতান মাহমুদ ও মমতাজ উদ্দিন আহমদ। মামলার অপর আসামি এ কে এম মুসা মামলার শুরু থেকে পলাতক। জানা গেছে, মামলাটি এর আগে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল। ২০১৩ সালের ১১ জুন মামলাটিতে যুক্তিতর্কের শুনানি পর্যায়ে ওই আদালতের বিচারক বিব্রত বোধ করেন। এরপরই মহানগর দায়রা জজ মামলাটির বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলাও ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য হয়েছিল। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ফলে মামলাটির বিচার ঝুলে যায়।

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button