নিউজটি পড়া হয়েছে 374

প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডে একদিনেই সেঞ্চুরি হাকিঁয়েছেন তিনজন।

সিলনিউজ২৪.কমঃ ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে প্রথম রাউন্ডের ৬ ম্যাচে সেঞ্চুরির ঘটনা ছিল দুটি।  আর গতকাল একদিনেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনজন ব্যাটসম্যান। প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় গতকাল জয় দেখেছে ফেভারিট দলগুলোই।

আসরে টানা দ্বিতীয় জয় কুড়ালো চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড, রানার্সআপ প্রাইম দোলেশ্বর ও শিরোপাপ্রত্যাশী লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

তবে বড় টার্গেটের পেছনে ব্যাট হাতে গতকাল হার দেখে শিরোপাপ্রত্যাশী অপর দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। আর টানা দ্বিতয়ি খেলায় ম্যাচসেরার পুরসম্‌কার ওঠে লিজেন্ডস ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের হাতে। নাঈম-মুশফিকের ২২৫ রানের জুটি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মাঠে গতকাল বড় ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ৬৮ রানে জয় কুড়ায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ম্যাচে লিজেন্ডসের ব্যাট হাতে জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকান অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও নাঈম ইসলাম। বিকেএসপি-৪ মাঠে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন রূপগঞ্জ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। তবে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো ছিল না রূপগঞ্জের। দলীয় মাত্র ১৩ রানে উইকেট খোয়ান রূপগঞ্জের দুই ওপেনার সায়েম আলম ও হাসানুজ্জামন । উভয়কেই সাজঘরে ফেরান জাতীয় দলের বাইরে থাকা পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিব। তবে তৃতীয় উইকেটে ২২৫ রানের জুটি গড়েন মুশফিক-নাঈম। উভয়েই পূর্ণ করেন ব্যক্তিগত শতক। ১৩৪ বলের ইনিংসে মুশফিক করেন সমান ১৩৪ রান। এতে মুশফিক হাঁকান ১৪টি চার ও একটি ছক্কা। ১০৩ রানে ইনিংসে নাঈমের ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কার মার। এতে ৩০৫/৫ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। জবাবে প্রায় ৪ ওভার বাকি রেখে ২৩৭ রানে গুঁড়িয়ে যায় অধিনায়ক আবদুল রাজ্জাকের শেখ জামাল ধানমন্ডি। সর্বোচ্চ ৫৪২ রান করেন জিয়াউর রহমান। আসরে এটি শেখ জামালের প্রথম হার।

বিকেএসপি-৩ মাঠে পারটেক্স স্পোটিংয়ের বিপক্ষে হেসেখেলেই জয় কুড়ায় শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড। আর ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে গলদঘর্ম সময় কাটে পারটেক্স অধিনায়ক তারিক আহমেদের। টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন পারটেক্স অধিনায়ক। আর ইনিংস শেষে আবাহনীকে ২৩৫ রানের টার্গেট দেন তারা। শুরুতে বল হাতে শক্তিধর আবাহনীকে ভড়কেও দেয় পারটেক্স। ভারতীয় ওপেনার উদয় কউল ও জাতয়ি তারকতা লিটন কুমার দাসের বিদায়ে ১২.৫ ওভার শেষে আবাহনীর সংগ্রহ দাঁড়ায় দলীয় ৪৩/২-এ। তবে এর পর ব্যাট হাতে পারটেক্স বোলারদের তুলোধুলো করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। তৃতীয় উইকেটে এ দুজন গড়েন ১৫০ রানের জুটি। ইনিংসে পৃথক ৯জন খেলোয়াড়ের হাতে বর তুলে দেন পারটেক্স অধিনায়ক তারিক। এতে সর্বোচ্চ ৮ ওভার বল করেন অফস্পিনার নুরুজ্জামান মাসুম। যদিও ৪৫ রান ব্যয়ে উইকেট শূন্য থাকেন তিনি। ব্যাট হাতে মাহমুদুল্লাহ  ৫২ বলে ৭৭ রানের মারকুটে ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলেও নাজমুল হাসান শান্ত অপরাজিত থাকেন ১০১ রানে। ব্যাট হাতে মাহমুদুল্লাহ হাঁকান সমান পাঁচটি চার ও ছক্কা। ১০৯ বলের ইনিংসে শান্ত হাঁকান পাঁচটি বাউন্ডারি ও  চারটি ছয়। আবাহনীর অপর ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন অপরাজিত থাকেন ২৩ রানে।

ব্রাদার্সের ইমতিয়াজের ভিন্ন আক্ষেপ টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হার দেখলো ব্রাদার্স ইউনিয়ন। তবে গতকাল ব্যাটিংয়ে নিজেদের শুরু ও শেষের অমিল দেখে আক্ষেপ হতে পারে ব্রাদার্সের। আর ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে ক্রিজ ছাড়েন প্রতিপক্ষ ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন। গতকাল ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী মাঠে টস জিতে ব্রাদার্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় প্রাইম দোলেশ্বর। আর শুরুতে ১১৩ রানের জুটি গড়ে দোলেশ্বরকে ধাক্কা দেন ব্রাদার্সের দুই ওপেনার মিজানুর রহমান ও জুনাইদ সিদ্দিকী। আর ইনিংসের ১১ ওভার বাকি রেখে ১৮০/২ সংগ্রহ নিয়ে বড় পুঁজির সম্ভাবনা উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল তাদের। তবে শুরুর দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় ব্রাদার্স। শেষ ৬৪ বলে ৭ উইকেট খুইয়ে ব্রাদার্সের স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে ৬৬ রান। জবাবে ব্যাট হাতে ধৈর্যশীল এক ইনিংস খেললেও শেষটায় খেই হারান দোলেশ্বর ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন। ব্যক্তিগত ৯৯ রানে আউট হন তিনি। ইনিংসে তিনি খেলে নেন ১৪৩ বল। এতে ইমতিয়াজ হাঁকান ৯টি চার ও দুটি ছক্কা।

 

সংক্ষিপ্তি স্কোর

আবাহনী-পারটেক্স

টস: পারটেক্স, ব্যাটিং

পারটেক্স এসসি: ৫০ ওভার; ২৩৪/৭ (জুবায়ের ৫০, সাজ্জাদ ৪৪, যশপাল সিং ৩৩, তারিক ২৫, জাকারিয়া ২৫, শুভাগত ২/৪৫, সাইফুদ্দিন ২/৫৬)।

আবাহনী লিমিটেড: ৩৮.৩ ওভার; ২৩৭/৩ (শান্ত ১০১*, মাহমুদুল্লাহ ৭৭, মোসাদ্দেক ২৩*, লিটন দাস ২০, উদয় কউল ৯, মামুন ১/২০, হাফিজ ১/২৭, রাজিবুল ১/৩২)।

ফল: আবাহনী ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত (আবাহনী)

 

রূপগঞ্জ-শেখ জামাল

টস: রূপগঞ্জ, ব্যাটিং

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ৫০ ওভার; ৩০৫/৫ (মুশফিক, ১৩৪, নাঈম ইসলাম ১০৩, জালাজ সাক্সেনা ২৪, শরিফ ১৫, শাহাদাত ২/৫২, রাজ্জাক ২/৬৩, ইলিয়াস সানি ১/৬৩)।

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব: ৪৬.২ ওভার; ২৩৭ (জিয়াউর ৪২, মাহবুবুল ৩৬, ফজরে মাহমুদ ২৪, সোহাগ ২৪, নাঈম ২/২১, শরিফ ২/৩১, আসিফ ২/৪০, মোশাররফ ২/৫৬)।

ফল: লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৬৮ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: মুশফিকুর রহীম (রূপগঞ্জ)

 

ব্রাদার্স-প্রাইম দোলেশ্বর

টস: প্রাইম দোলেশ্বর, ফিল্ডিং

ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৫০ ওভার; ২৪৬/৯ (জুনাইদ ৮৭, মিজানুর ৫৬, মাইশুকুর ৪৭, সাদ্দাম ১৪, আরাফাত সানি ৪/৪৫, এনামুল হক-টু ২/৪৫, শরিফুল্লাহ ২/৪৭)।

প্রাইম দোলেশ্বর: ৪৮.৩ ওভার, ২৪৭/৬ (ইমতিয়াজ ৯৯, মজিদ ৪৫, মার্শাল আইয়ুব ৩৩, পুনিত ২২, সাদ্দাম ৩/৫৫, নিহাদুজ্জামান ২/৫০, নাঈম হাসান ১/২১)।

ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: ইমতিয়াজ হোসেন (দোলেশ্বর)

ফেসবুক মন্তব্য
xxx