নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হলে সরকারের পতন হবেইঃ মির্জা ফখরুল।

সিলনিউজ২৪.কমঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ-বিভক্তি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান নতজানু, সেবাদাসী সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে সিলেট বিভাগ সংহতি সম্মেলনী, ঢাকার উদ্যোগে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী’র গুমের ৫ বছরে তাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে এর আগে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিএনপিতে শুষ্ক মৌসুমের জমির মতো অসংখ্য ফাটল এবং অনেকগুলো ছোট ছোট আইল তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে সায় দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং মির্জা আব্বাস।

তারাও স্বীকার করে বলেন, ইলিয়াস আলী গুমের পর থেকে আমরা ভয়, আতংকে আছি। আমরা কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না। পরস্পরের দিকে তাকাচ্ছি না। আমাদের মধ্যে অনাস্থা, অবিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নেতাকর্মীদের স্লোগানে বিরক্ত হয়ে ফখরুল বলেন, বিএনপিতে কোন উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিমের নামে স্লোগান হবে না। স্লোগান হতে হবে শুধু একটাই। বিএনপি একটাই। আমাদের এক হয়ে এই গুম খুনের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। পতন ঘটাতে হবে নতজানু সেবাদাসী সরকারের। এই নতজানু সরকারের কাছে দেশের মানুষের অধিকার নিরাপদ নয়।

তিনি আফসোস করে বলেন, ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পরপর আমরা শক্ত অবস্থান নিতে পারতাম। আমরা বিশাল একটি অবরোধও দিয়েছিলাম। কিন্তু এরপর কেন যেন আমরা থিতিয়ে গেলাম!

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়টি প্রচার করার সুযোগ ছিলো। তাকে খুঁজে পাই কি না পাই অন্তত এই সরকারের মুখোশ উন্মোচন করতে পারতাম! এখনো সুযোগ আছে তা করার। কিন্তু কেন যেন আমরা ব্যর্থ হচ্ছি!

তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ৫শ নেতাকর্মী গুম হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যার শিকার। কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এতো মানুষ হতাহত হয়েছেন কিনা আমার জানা নেই।। এরপরও আমরা কেন দুর্বার আন্দোলন করতে পারছি না তা খুঁজে বের করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার তিস্তার পানি, অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি জনগণকে দিতে পারবে না। নতজানু সরকারের সেই শক্তি নেই। তারা যা ছিলো দিয়ে এসেছে ভারতকে।

‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইলিয়াস আলীর পথ অনুসরণ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে’-একথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে সরকারকে।

সিলেট সংহতি সমিতি আয়োজনে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি তাহমিনা রুসদী লুনা, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

Facebook Comments