দেশের ৩৩৯ জন কৃতী ক্রীড়াবিদকে গণভবনে সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলনিউজ২৪.কমঃ খেলাধুলার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহ আর উৎসাহের কথা সবারই জানা। কোনো গেমসে বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেট পদক জিতলে সবার আগে তিনিই শুভেচ্ছা জানান তাকে। ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী রবিবার (১৬ এপ্রিল) গণভবনে কৃতী ক্রীড়াবিদদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সংবর্ধনা দিয়ে ক্রিকেট থেকে ফুটবল, সাতার থেকে

ভারোত্তোলন- দেশের ৩৩৯ ক্রীড়াবিদ, কোচ, কর্মকর্তার হাতে তিনি চেক ও ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেন। জমকালো আয়োজনে এদিন গণভবনে ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলা বসে। সবাইকে কাছে পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন উৎফুল্ল। ‘খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে যা যা করণীয় আমাদের সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার তা করবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা কেউ এককভাবে করতে পারে না। এখানে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিত্তশালী ব্যক্তি যারা আছেন, তাদের আমি আহ্বান করব, তারাও সহযোগিতা করবেন, তারাও এগিয়ে আসবেন।’ প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সকলে এখানে উপস্থিত হয়েছেন, আমি মনে করি, গণভবনের মাটি ধন্য হয়েছে। আমি চেয়েছিলাম বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সবার হাতেই একটু ক্ষুদ্র উপহার তুলে দেবো।’ তিনি জানান, এই পুরস্কার তাদের জন্য যারা বিশ্বের সামনে খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের সুনাম বয়ে এনেছে। ‘সকলে মিলে আপনারা বাংলাদেশকে একটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে গেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে একটু সুযোগ দিলে আমাদের ছেলেমেয়েরা যে সোনার ছেলেমেয়ে, তা প্রমাণ করতে পারে।’ গণভবনের এই সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের যেসব খেলোয়াড় ব্যক্তিগত বা দলগতভাবে দেশে এবং দেশের বাইরে ক্রীড়াক্ষেত্রে অংশ নিয়ে বিশেষ সাফল্য এনেছেন তাদের গণভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনায় সবার আগে প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশীয় গেমসের তিন স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ও শুটার শাকিল আহমেদকে অ্যাপার্টমেন্টের চাবি তুলে দেন। পরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, নারী ক্রিকেট দল, নারী ফুটবল দল, অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল দল, বধির ক্রিকেট দল, বিশেষ শীতকালীন অলিম্পিক দল, পুরুষ ও নারী আরচারি দল, রোলার স্টেকিং দল, পুরুষ ও নারী হ্যান্ডবল দল, হকি দল, শুটিং দল, ভারোত্তোলক দল, ভলিবল দল ও জুনিয়র মেয়েদের ব্যাডমিন্টন দলকে পদক ও চেক প্রদান করেন।

ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এক কোটি টাকার পুরস্কার নেন। শ্রীলংকায় দারুণ পারফরম্যান্স করায় দলকে এই অর্থ দেয় বিসিবি। এ ছাড়া হকি ও সাঁতার ফেডারেশনকে এক কোটি করে টাকা দেন প্রধানমন্ত্রী। গত আগস্টে ঢাকায় এএফসি আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৬ দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তার পুরস্কার হিসেবে দলটিকে প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ টাকার চেক দেন। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও কোচ গোলাম রব্বানি ছোটনের হাতে এই চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

Facebook Comments