আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৪ লাখ ২৬৭ কোটি টাকা।

সিলনিউজ২৪.কমঃ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রাক্কলন করে আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার প্রস্তাব করা হয়েছে চার লাখ ২৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সম্পদ কমিটির বৈঠকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে নিজস্ব সম্পদ আহরণের ওপর বেশি জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি সহায়তার সঠিক ব্যবহার ও পাইপলাইনে জমে থাকা সহায়তা ছাড় করে সাহায্য বাড়ানোর দিকে নজর দিতে বলা হয়।

জানা গেছে, নতুন বাজেটের আকার জিডিপির ১৮ শতাংশ এবং চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট অপেক্ষা ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আগামী বাজেটে বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বিশাল এই বাজেটে ঘাটতি এ প্রথমবারের মতো ৫ শতাংশের বেশি রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, চার লাখ ২৬৭ কোটি টাকার মধ্যে মোট রাজস্বপ্রাপ্তি প্রাক্কলন করা হয়েছে দুই লাখ ৭১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে আসবে দুই লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হবে নন-এনবিআর তথা করবহির্ভূত খাত থেকে। ফলে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি দাঁড়াবে এক লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হারে যা জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অতীতে বাংলাদেশে কখনই ঘাটতি পাঁচ শতাংশের বেশি রাখা হয়নি। বিশাল এ ঘাটতি অর্থায়ন করা হবে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত থেকে নেওয়া ঋণের মাধ্যমে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত তথা সঞ্চয়পত্র থেকে আসবে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।

বৈঠক শেষে সচিবালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ঘাটতি কিছু বেশি রাখা হয়েছে। তবে ঘাটতি আরও কমে আসবে। কারণ, আমরা তো সব টাকা খরচ করতে পারি না। তাই আপাতত পাঁচ শতাংশের বেশি প্রাক্কলন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবার জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হবে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আগামী বাজেটে প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছ ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পরে মূল বাজেট থেকে কমিয়ে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, নতুন এডিপি এক লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। অন্যদিকে বৈদেশিক সহায়তা বাবদ আসবে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। আগামী বাজেটে মূল্য স্ফীতির হার ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নতুন বাজেটে এমপিদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকাজে বাড়তি থোক বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কত রাখা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত হয়নি।

জানা গেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আগামী বাজেটে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি আলাদাভাবে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বড় প্রকল্পে বরাদ্দ অব্যাহত থাকছে। এ ছাড়া বিভিন্ন খাতে দেওয়া ভর্তুকি ও রফতানিকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। বিদ্যুতের চাহিদা মোতাবেক ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। এ ছাড়া গরিব জনগণকে সস্তায় চাল খাওয়াতে খোলা বাজারে চাল বিক্রয়ে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments