অাজ ১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস।

সিলনিউজ২৪.কমঃ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে আজকের এ দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এ বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। মুজিবনগর সরকারের অধীনেই বাংলাদেশ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। ১০এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পেশ করা হয়। অস্থায়ী সরকারে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের স্থান দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি করা হয়। বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার থাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী এবং এ.এইচ.এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী করা হয়। এই সরকার জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং মেজর জেনারেল আবদুর রবকে চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত করে।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে অস্থায়ী সরকার। পরের দিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অস্থায়ী সরকারের শপথগ্রহণের খবর ফলাও করে ছাপা হয়। এতে দেশে-বিদেশে এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়।

আজ মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি পালনে মেহেরপুরের মুজিবনগর ও রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে।

সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একই স্থানে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আলোচনা সভা হবে। ঢাকা, মেহেরপুর ও মুজিবনগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় আলোকসজ্জা করা হবে। ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে বিকেলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করবে। আজ ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সারা দেশে সব শাখা কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসদ (আম্বিয়া) এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

Facebook Comments