জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান, রিপন এবং বিপুলের ফাসিঁ কার্যকর।

সিলনিউজ২৪.কমঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা মুফতি আব্দুল হান্নান এবং তার দুই সহযোগী শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি বুধবার (১২ এপ্রিল) রাতে কার্যকর করা হয়েছে। ২০০৪ সালে সিলেটে তৎকালীন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলার দায়ে তিনজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ফাঁসি হয় কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে। দেলোয়ার হোসেন রিপন ফাঁসি কার্যকর হয় সিলেট কেন্দ্রীয়  কারাগারে।

আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন কারাফটকের সামনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, রাত ১০টায় কাশিমপুর ও সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে একই সময়ে তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেল সুপার মো. ছগির মিয়া বলেন, ‘রিপনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এরপরই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

২০০৪ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হয় আর আনোয়ার চৌধুরীসহ অর্ধশত মানুষ আহত হয়।

ওই মামলার রায়ে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ। এ বছরের মার্চের ১৯ তারিখে ঐ মামলায় মুফতি আব্দুল হান্নানসহ তিনজনকে আপিল বিভাগের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

২২শে মার্চ তাকে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় পড়ে শোনানো হয়। এরপর ২৭শে মার্চ প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন মুফতি হান্নান। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি।

হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) মুফতি হান্নানের নির্দেশনায় শক্তিশালী বোমায় বার বার কেঁপেছে দেশ। রক্তাক্ত হয়েছে মাজার থেকে শুরু করে রাজপথ, জনসভা এমনকি সংস্কৃতি অঙ্গন।

হুজি জঙ্গিদের এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ, আহত হয়েছেন ৬ শতাধিক। অন্তত ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় সরাসরি কলকাঠি নেড়েছিলো মুফতি হান্নান। ২০০০ সালে এ জঙ্গি-গডফাদারের নাম চলে আসে খবরের পাতায়। কারণ তার পরিকল্পনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিলো গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টসহ চারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো হান্নানের হুজি জঙ্গিরা। ২০০৪ সালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরিকে গ্রেনেডে রক্তাক্ত করা ছাড়াও ২০০৫ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকেও হত্যা করা হয়েছিলো তার প্রত্যক্ষ ইন্ধনে।

Facebook Comments