আগামি ২০১৯ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা চায় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।

২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য শতভাগ কর অবকাশ সুবিধা চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ (সিএসই)।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ওশেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ডিএসই ও সিএসই আনুষ্ঠানিকভাবে ওই প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম সরকার অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই স্কিমের আওতায় স্টক এক্সেচেঞ্জের যে সংস্কার কার্যক্রম চলছে তা চলমান রাখতে ও পুঁজিবাজারের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধির স্বার্থে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বলা হয়, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের পর দুই এক্সচেঞ্জকে ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে পাঁচটি ধাপে পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেয় এনবিআর। এর আওতায় প্রথম বছর শতভাগ ও পরবর্তী চার বছর যথাক্রমে ৮০, ৬০, ৪০ ও ২০ শতাংশ হারে কর অবকাশ সুবিধা পায় স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে শেয়ারবাজার উন্নয়নের স্বার্থে স্টক এক্সচেঞ্জের টানা পাঁচ বছর শতভাগ কর অবকাশ সুবিধা প্রয়োজন।

বাজেট প্রস্তাবনায় ডিএসই জানায়, নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে বিশেষ সুবিধা দিলে আইপিওর সংখ্যা বাড়বে। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে নতুন করে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে তাদের তিন বছরের জন্য শতভাগ কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এর বাইরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বর্তমান করপোরেট করহার ২৫ থেকে ১৫ শতাংশ করা বা তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির সঙ্গে তাদের করহারে শতকরা ২০ পয়েন্ট ব্যবধান নিশ্চিত করা দরকার।

ডিএসই বলছে, ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন, ইটিএফ ও ডেরিভেটিভসের মতো প্রডাক্ট চালুর জন্য কাজ করছে তারা। স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তিতে আলাদা বাজার গঠন ও ওটিসি মার্কেটের আধুনিকায়ন নিয়েও কাজ হচ্ছে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জের অর্থের প্রয়োজন। তবে করারোপের কারণে পরিচালন ক্ষতি হলে, লেনদেন ফি বাড়ানো ছাড়া ডিএসইর কোনো উপায় থাকবে না বলে জানায় উভয় স্টক একচেঞ্জ।

এছাড়া, কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশে ২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া, ব্রোকারেজ হাউজগুলোয় সিকিউরিটিজ কেনা-বেচায় করহার কমানো, সিকিউরিটিজ হাউজগুলোর জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শতকরা ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প ডিউটি বাতিল, স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার হস্তান্তরে মূলধনী মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর কেটে নেওয়ার বিষয়টি ব্লক মার্কেটে লেনদেনে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শূন্যে নামিয়ে আনা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির মধ্যে করপোরেট করহারের ব্যবধান বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করা, সাবসিডিয়ারি কোম্পানির লভ্যাংশের ক্ষেত্রে দ্বৈত কর পরিহার, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাটহার কম রাখা ও ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই ও সিএসই।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটোয়ারী বলেন, বতর্মানে দেশের পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা লক্ষ্যে আছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একচেঞ্জের আয়ের ওপর কর আরোপ করা হয় তাহলে পুঁজিবাজারের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। যা শিল্প ও বাণিজ্যিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ অবস্থায় স্টক এক্সচেঞ্জকে কর রেয়াত দেওয়া হলে আমরা দীর্ঘ মেয়াদে আরো শক্তিশালী হবো।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগণকে সহযোগিতা করার ‍উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করতে হবে। আমরা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইনডোর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সেবা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চাই।

Facebook Comments