নিউজটি পড়া হয়েছে 64

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খুলনা-কলকাতা রুটে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হচ্ছে আজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বেনাপোল চেকপোস্ট হয়ে খুলনা-কলকাতা রুটে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হচ্ছে আজ শনিবার (৮ এপ্রিল)। দুই দেশের মধ্যে মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য ও যাত্রীসেবা বাড়াতে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন।

বেনাপোল রেল স্টেশনে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, রেলের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের জি এম খায়রুল আলমসহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

রেল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ খুলনা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ট্রেন কলকাতার উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করবে। পরে ওই ট্রেনটিই ফিরবে কলকাতা থেকে। খুলনা ও কলকাতায় রেলস্টেশনে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ট্রেন চালানোর যাবতীয় অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। বেনাপোল ও ওপারের পেট্রাপোলে নতুন করে পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও রেল পুলিশের জন্য কক্ষ নির্মাণ। বেনাপোলে নির্মাণে ব্যয় করা হয় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা।

গত ১৯ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বেনাপোল রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চলতি বছরের শুরুতে খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রী ট্রেন চলবে বলে সাংবাদিকদের জানান। এরপর গত ৩ নভেম্বর বেনাপোল রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান।

রেলপথ মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনার সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক ট্রান্স-এশিয়ান রেলরুটে অন্তর্ভুক্ত হবে বাংলাদেশ। রেলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সুবিধাসহ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বৃদ্ধি পাবে।

রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে যাত্রীবাহী বগি ও ইঞ্জিন স্বল্পতার কারণে শুরুতে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভারতীয় ইঞ্জিন ও রেক দিয়ে চলাচল করবে। ট্রেনটি উদ্বোধন করা হলে খুলনা-কলকাতা ১৫০ কিলোমিটার রেলপথ মাত্র তিন ঘণ্টায় চলাচল সম্ভব হবে।

ট্রেনটি খুলনা-যশোর-বেনাপোল-পেট্রাপোল-বনগাঁ হয়ে কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছাবে। উদ্বোধনের পর থেকে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে এক দিন চলাচল করবে। পরে ট্রিপ বাড়ানো হবে। তিন ঘণ্টার মধ্যে ব্যবসায়ী, পর্যটক, রোগী কলকাতায় পৌঁছাতে পারবে। দুই দেশের মানুষ যাতে আরো অল্প খরচে, স্বল্প সময়ে ও নিরাপদে স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারেন সেই লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান জানান, প্রথমাবস্থায় যশোর জংশন, বেনাপোল ও নওয়াপাড়া স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে যাত্রীরা এই ট্রেনে চড়তে পারবেন না। পরে যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে ট্রেনের ট্রিপ ও স্টেশন সংখ্যা বাড়ানো হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি অনলাইনেও টিকিট কাটার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।

 

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার শাহিদুর রহমান জানান, খুলনা স্টেশন থেকে যাত্রীরা ট্রেনে চড়ে বেনাপোল পৌঁছানোর পর বেনাপোল রেলস্টেশনে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাউন্টারে যাত্রীদের পাসপোর্ট ও ব্যাগেজ তল্লাশির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষ করে ভারতে যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •