আতিয়া মহল পুরোপুরি বিস্ফোরকমুক্ত করতে আরও সময় লাগবে

সিলেট নগরের শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল পরিদর্শন শেষে র‌্যাব-৯ সিলেট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন সিলেটে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল পুরোপুরি বিস্ফোরকমুক্ত করতে আরও সময় লাগবে বলে

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিলেট র‍্যাব-৯-এর সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক এ কথা বলেন। এর আগে তিনি আতিয়া মহলে র‍্যাবের তল্লাশি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেনজীর আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে সেখান থেকে নয়টি আইইডিসহ (রূপান্তরিত বিস্ফোরক) বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচতলা বাড়ির এ পর্যন্ত তিনতলা পর্যন্ত তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়েছে। বাড়িটির নিচতলায় সিঁড়িঘরে সিরিজ বোমা স্থাপন করা ছিল। সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যে আতিয়া মহল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কবে নাগাদ ভবনটি হস্তান্তর করা হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।

আতিয়া মহলে সেনা অভিযান চলাকালে বাইরে বিস্ফোরিত বোমার সঙ্গে আতিয়া মহল থেকে উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত বোমার সাদৃশ্য পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তাই এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সিলেট ও মৌলভীবাজারে তিনটি আস্তানার পর আর কোনো আস্তানা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তবে জঙ্গি বিষয়ে কোনো অনুমাননির্ভর কথা বলা অনুচিত।’

পয়লা বৈশাখে সিলেটসহ বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন, জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আছে কি না, জানতে চাইলে র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো ঘাটতি নেই। তবে আশঙ্কার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আপাতত এমন আশঙ্কা নেই।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি-পাঠানপাড়ার পাঁচতলা আবাসিক ভবন আতিয়া মহলের নিচতলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাত আড়াইটায় ঘিরে রাখে পুলিশ। পরদিন ২৪ মার্চ ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট অভিযানে অংশ নেয়। ২৫ মার্চ সকাল থেকে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও বিশেষায়িত কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। প্রথম দিনের অভিযান চলাকালে সন্ধ্যায় ও রাতে দুই দফা বিস্ফোরণে র‍্যাবের গোয়েন্দাপ্রধান, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজন নিহত হন। আহত হন ৪৪ জন। ১১১ ঘণ্টা পর ২৮ মার্চ সেনাবাহিনী সফলভাবে অভিযান শেষ করে। এর আগে বাড়িটির ২৮টি ফ্ল্যাটে আটকা পড়া ৭৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন সেনা কমান্ডোর সদস্যরা।

অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়েছিল, জঙ্গি আস্তানায় আইইডি বোমা পোঁতা আছে। এ ছাড়া বারুদে পুরো আতিয়া মহল ঠাসা থাকার বিষয়টিও জানানো হয়েছিল। এ কারণে সতর্কতার জন্য অভিযান শেষের পাঁচ দিন পর ৩ এপ্রিল র‍্যাবের বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল ও ডগ স্কোয়াড ইউনিট তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ওই দিন বিকেলে আতিয়া মহলে পড়ে থাকা দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনীর অপারেশন টোয়ালাইট নামের ১১১ ঘণ্টার জঙ্গিবিরোধী অভিযান শেষে গত সোমবার থেকে র‍্যাব বিস্ফোরকমুক্ত করতে আতিয়া মহলে তল্লাশি শুরু করে। আজ শনিবার এ তল্লাশি ছয় দিনে গড়াল। ষষ্ঠ দিনের তল্লাশি কার্যক্রম পরিদর্শনে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে র‍্যাবের মহাপরিচালক আতিয়া মহলে যান। সেখান থেকে বোমা হামলায় আহত ব্যক্তিদের দেখতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকনউদ্দিন আহমদসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার হোসেন, পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল মাহবুব হাসান, পরিচালক (গণমাধ্যম ও আইন) মুফতি মাহমুদ খান ও র‍্যাব-৯-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু হায়দার আজাদ আহমদ।

সূত্রঃপ্রথম আলো

Facebook Comments