শেষ ম্যাচে জয় দিয়েই ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মাশরাফি

প্রিয় অধিনায়কের আকস্মিক অবসরের ঘোষণায় সারাদেশের মত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল টিম টাইগার। প্রথম ম্যাচ হারার জন্য এটাও একটা কারণ বটে। তবে শোককে শক্তিতে পরিণত করে টাইগাররা ঘোষণা দিয়েছিল, ম্যাশের বিদায়ী ম্যাচে তাকে জয় উপহার দিতে চান সবাই। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় তথা শেষ ম্যাচে সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করল সবাই। দারুণ ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে জ্বলে উঠেন সাকিব, মুস্তাফিজরা। বাংলাদেশ পেল ৪৫ রানের দারুণ এক জয়।

বল হাতে ধ্বংসের সূচনা করলেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ঘূর্ণিতে ফিরে গেলেন দুই ওপেনার কুশল পেরেরা আর মুনারাবিরা। ইনিংসের প্রথম বলে চার মেরেও দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে যান আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা কুশল পেরেরা (৪)। পরের ওভারে বল হাতে আবারও উইকেট সাকিবের। আগের বলে চার মারা মুনারাবিরা (৪) তালুবন্দী হলেন রিয়াদের। ১৯ রানেই দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

ক্রিজে এসে মাহমুদ উল্লাহর বলে পুল করেছিলেন অধিনায়ক উপল থারাঙ্গা (২৩)। টাইমিংয়ের ভুলে বল উড়ে গিয়ে মিড অনে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের তালুবন্দী হয়। এসময় জোড়া আঘাত হেনে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলে কাভারে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন গুনারত্নে (০)। পরের বলে সৌম্যর হাতে ধরা পড়েনন মিলিন্দা সিরিবর্ধনা (০)। তবে থিসারা পেরেরা কল্যাণে মালিঙ্গার মতো হ্যাটট্রিক হয়নি দ্য ফিজের। মহাবিপদে পড়া দলের হাল ধরেন চামারা কাপুগেদারা এবং বাংলাদেশের ‘শত্রু’ বলে পরিচিত থিসারা পেরেরা।

৬ষ্ঠ উইকেটে দুজনে মিলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। কিন্তু সাকিব আল হাসান আছেন না? বিশ্বসেরা তৃতীয়বারের মত দেখালেন তার ঘূর্ণিজাদু। তার বলে বোকা বনে গিয়ে মুশফিকের স্টাম্পিংয়ের শিকার হলেন ২৩ বলে ২৭ রান করা থিসারা পেরেরা। সপ্তম উইকেটে ২১ রানের জুটি ভাঙলেন বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার দুর্দান্ত এক বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে গেলেন সেকুজে প্রসন্ন (১১)। সাকিবের পথ আবারও অনুসরণ করেন মুস্তাফিজ। তার তৃতীয় শিকার হন ৩৫ বলে ৫০ রান করা কাপুগেদারা। এরপরই মালিঙ্গাকে (০) চতুর্থ শিকারে পরিণত করে সাকিবকে ছাড়িয়ে যান কাটার মাস্টার। স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরকেটি ঠুকে দিলেন সাঈফউদ্দিন।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা হয় দুর্দান্ত। নতুন ওপেনিং সঙ্গী ইমরুল কায়েসের সঙ্গে শুরু থেকেই আক্রমণ শুরু করেন সৌম্য সরকার আর ইমরুল কায়েস। দুজনের কাছ থেকে দল যা চেয়েছিল সেটা অক্ষরে অক্ষরে পাল করেন তারা। ৬.৩ ওভারে ওপেনিং জুটিতে এল ৭১ রান। এটাই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি। আগের সেরা উদ্বোধনী জুটি ছিল তামিম ইকবাল ও এনামুল হকের ৬৩। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপালের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন তারা।

রেকর্ড জুটি গড়ার পর গুনারত্নের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ১৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ২ ওভার বাউন্ডারিতে ৩৪ রান করা সৌম্য সরকার। সৌম্যর বিদায়ের পর দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হন ইমরুল কায়েস। তিনি ২৫ বলে ৪ বাউন্ডারি এবং ১ ওভার বাউন্ডারিতে ৩৬ রান করেছেন। এরপর দলের হাল ধরেন সাব্বির রহমান এবং সাকিব আল হাসান। খুব সুন্দর খেলছিলেন দুজন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এল ৪৬ রান। কিন্তু এরপরেই ছন্দপতন। ১৮ বলে ১ ছক্কায় ১৯ রান করে সঞ্জয়ার বলে বোল্ড হয়ে গেলেন সাব্বির। এক ওভার পরেই নুয়ান কুলাসেকারার বলে সাকিবের স্টাম্প ছত্রখান! আউট হওয়ার আগে ৩১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৮ রান করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

মোসাদ্দেকও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১১ বলে ১ চার এবং ১ ছক্কা হাঁকিয়ে ১৭ রান করে তিনি পেরেরার শিকার হন। মুশফিক ক্রিজে এসেই মারমুখী হয়ে ওঠেন। ৬ বলে ১ চার ১ ছক্কায় ১৫ রান করে মালিঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে যান। পরের বলে আবারও বোল্ড অধিনায়ক মাশরাফি। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে ০ রানেই ফিরতে হয় টাইগার ক্যাপ্টেনকে। গতিদানবের সামনে আসে হ্যাটট্রিকের সুযোগ! সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগালেন তিনি। এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরলেন অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে রান দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৭৬।

Facebook Comments