ইসলামে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হারামঃ মসজিদুল হারামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খতিব শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন নাসির আল খুজাইম।

ইসলামে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হারাম। শান্তির ধর্ম ইসলাম নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা নিষিদ্ধ করেছে। এমন কী অসুমলিমকেও অন্যায়ভাবে হত্যা করা যাবে না। হত্যাকারীরা জাহান্নামে যাবে। যারা জিহাদের নামে তরুণদের জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। বৃহস্পতিবার ( ৬এপ্রিল)
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামিক ফাউন্ডেশের আলেম-ওলামা মহাসম্মেলনে এসব কথা বলেন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খতিব শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন নাসির আল খুজাইম এবং রাসূল (সা.) প্রতিষ্ঠিত মদিনার মসজিদে নববীর খতিব ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহম্মদ আল কাসিম।
সারাদেশ থেকে আসা প্রায় আড়াই লাখ ইমাম, আলেম, ওলামা এ মহাসম্মেলনে যোগ দেন। তাদের উদ্দেশ্যে আরবিতে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সফররত মক্কা ও মদিনার দুই খতিব। তা বাংলায় ভাষান্তর করা হয়। মহাসম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কোরআন থেকে উদ্ধৃত করে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ড. মুহাম্মদ বিন নাসের বলেন, ‘হে মুসলমানরা, নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা অপরাধ। নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা, পুরো মানবজাতিকে হত্যার শামিল।
তিনি বলেন, ‘কোনো মুসলিম অপর মুসলিমকে হত্যা করতে পারে না।’ অমুসলিমদের হত্যা করাও কোরআনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তিদের হত্যা করা যাবে না, যারা মুসলমানদের দেশে বাস করে এবং বিধর্মী। তাদের জান-মাল হেফাজতের দায়িত্ব মুসলমানদের। কিন্তু আজকাল দেখছি মুসলমানরা অপর মুসলিমকে হত্যা করছে, রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, এদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।’
হাদিস উদ্ধৃত করে ড. মুহাম্মদ বিন নাসের বলেন, ‘হত্যাকারীদের জন্য হাশরের ময়দানে জাহান্নামের আগুন রয়েছে। এ আগুন থেকে কেউ তাকে বাঁচাতে পারবে না। যারা দেশের শান্তি বিনষ্ট করতে চায়, দেশে অশান্তি নিয়ে আসতে চায়, যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত তারা জাহান্নামে যাবে। মনে রাখবেন, ইসলামে করেকটি হারাম কাজের মধ্যে একটি হলো মানুষক ভয় ভীতি দেখনো। যারা সন্ত্রাস জঙ্গি কর্মকাণ্ড করে এদের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক নেই।’
ইসলামের সঠিক চর্চায় ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে আলেমদের আহ্বান জানান মসজিদুল হারামের ভাইস প্রেসিডেন্ট। দুষ্কৃতিকারীদের ধরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইসলামকে মজবুত করার জন্য ইসলামের তালিমকে মজবুত করতে হবে। যারা দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত তাদের সহায়তা করতে হবে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ছাত্রদের নষ্ট করে দেশকে বিশৃঙ্খল করতে চায়, তাদের বলুন তাদের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক নেই।’
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আলেম ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানান মহাসম্মেলনের আরেক বিশেষ অতিথি মসজিদে নববীর ইমাম আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল কাশিম। তিনি বলেন, ‘ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত। ইসলাম কখনো সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না।’
আলেম ওলামাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেরই হই না কেন, আমাদের বড় পরিচয়, আমরা মুসলিম। দেশ বা সীমানা আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। এক মুসলমান আরেক মুসলমানের আপন ভাইয়ের মতো।’
মসজিদে নববীর ইমাম বলেন, ‘মহাসম্মেলনে ইসলামের প্রকৃত চিত্র ফুঠে উঠেছে। এ আয়োজন সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে আপ্যায়ন করেছেন, তাতে আমরা অভিভূত।
Facebook Comments