সিলেটে সোহেল হত্যা মামলায় ২ অাসামির মৃত্যদন্ড

সিলেটে নৃশংস কায়দায় সোহেল আহমদ নামের একজন লন্ড্রি ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মফিজুর রহমান ভূঞা বুধবার (৫ এপ্রিল) এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হচ্ছেন- সিলেটের মোগলগাঁও ইউনিয়নের বানাগাঁও গ্রামের কাজল মিয়া ও ইসলাম উদ্দিন। দুজনকে ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি দু’জনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। দুজনই বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। আদালতের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) নওশাদ আহমদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না-হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এরা হচ্ছেন, বানাগাঁওরের কয়েস মিয়া, ছমরু মিয়া, ময়না মিয়া, হোসাইন ওরফে হোসন, সাঈম উদ্দিন, মানিক মিয়া ও বিশ্বনাথের বদরুল মিয়া।

মামলা সূত্রে জানা যায়- ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল রাতেরবেলা সোহেলকে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বানাগাঁও এলাকার দালুয়ারবন্দ হাওরে নিয়ে যান। সেখানে ইসলাম ও কাজল মিলে সোহেলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে মস্তকটি অন্য একটি জায়গায় ফেলে দিয়ে লাশে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। লন্ড্রি ব্যবসায়ী সোহেল আহম্মদ নগরীর গোটাটিকরের ইসলাম উদ্দিনের এক বোনকে বিয়ে করেছিলেন। ইসলাম উদ্দিন সেই বিয়ে মেনে নেননি। এ ক্ষোভ থেকে ইসলাম ও তার বন্ধু কাজল হত্যা করে সোহেল আহম্মদকে। ঘটনার পরদিন পুলিশ সোহেলের মস্তকটি হাওর এলাকা থেকে উদ্ধার করে। ঘটনার দিন সোহেল আহম্মদ তার বাবা জয়নাল আহমদকে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। 

১৯ এপ্রিল সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন সোহেলের বাবা জয়নাল আহম্মদ। পুলিশ ইসলাম ও কাজলকে গ্রেপ্তার করলে এক পর্যায়ে তারা হত্যার দায় স্বীকার।

সিলেট কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক আবদুর রহিম মামলার তদন্ত করে ২০১১ সালের ২৬ জুন আদালতে ইসলাম ও কাজলসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার ৪০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে সোহেলের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সোহেলের ছোট ভাই রুবেল আহমদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবী জানান।

রায় ঘোষণার সময় আদালত এলাকায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী নওশাদ আহমদ চৌধুরী বলেন- ঘটনাটি বর্বর ও নৃশংস ছিল। এ রায় এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Facebook Comments