নিউজটি পড়া হয়েছে 18

আরো সাতটি মহাসড়কের ৫৯০ কিলোমিটার চার লেন হচ্ছে।

দেশের সাতটি মহাসড়কের আরো ৫৯০ কিলোমিটার রাস্তা চার লেন করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে সরকার। এজন্য ব্যয় হবে ৪৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
 
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স অর সাব রিজিওনাল রোপ ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফ্যাসিলিটি শীর্ষক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে দেশের ৬০০ কিলোমিটার মহসড়কে দুই পাশে ধীর গতির যান চলাচলের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা রেখে সড়ক চার লেনে উন্নীতকরনের জন্য ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি সম্পাদন ও ডিটেইল্ড ডিজাইন প্রণয়ন করা হবে।
 
প্রকল্পের আওতায় ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া-কালনা-লোহাগড়া-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ১৩৫ কিলোমিটার, রংপুর-সৈয়দপুর-বাংলাবান্ধা মহসড়কের ১৭২ কিলোমিটার, বনপাড়া-ঈশ্বরদী-পাকশী-কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ১০৫ কিলোমিটার, সিলেট-চরখাই-শেওলা-সুতারকান্দি মহাসড়কের ৪৬ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম বন্দর মহাসড়কের ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, নবীনগর থেকে পাটুরিয়া মহাসড়কের ৫৮ কিলোমিটার এবং রংপুরের পাগলাপীর-ডালিয়া-বরখাতা মহাসড়কের ৬০ কিলোমিটার এবং খেপুপাড়া-পায়রা বন্দর সংযোগ মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরে খেপুপাড়া-পায়রা বন্দর সংযোগ মহাসড়কটি বাদ দেওয়া হয়।  
 
সূত্র জানায়, প্রকল্পের কারিগরি প্রকল্প সহায়তা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী এডিবি পরামর্শক সেবার ক্রয় সংক্রান্ত কার্য সম্পাদন করবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নির্বাচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করে সরকারি অনুমোদন ক্রমে ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করবে।
 
সূত্র জানায়, এডিবি ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পরামর্শক সেবা ক্রয়ের আগ্রহ ব্যক্তকরন প্রস্তাব (ইওআই) আহ্বান করা হয়। পরবর্তী সময়ে দাখিলকৃত প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করে এডিবি ২০১৬ সালের ২৩ জুন ৬টি সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নাম সম্মতির জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে পাঠায় এবং অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠালে ২৭ জুন সংক্ষিপ্ত তালিকায় অনাপত্তি প্রদান করে। এরপর এডিবি সংক্ষিপ্ত তালিকাভূক্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব আহ্বান করে। দাখিল করা কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেগোসিয়েশনের জন্য এডিবি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর ফাস্ট র‌্যাংক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সুইডেন ভিত্তিক হিফাব ইন্টারন্যাশনাল এবি, জাপানের ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল কোম্পানি এবং বাংলাদেশের বিসিএল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড এবং ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের নাম পাঠায়।
 
এরপর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্র্র্তৃক গঠিত প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর থেকে নির্বাচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম শুরু করে ১৪ ডিসেম্বর নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করে। উল্লেখ্য, প্রকল্পের আওতাধীন খেপুপাড়া-পায়রা বন্দর সংযোগ সড়কটির উন্নয়ন কাজ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন পায়রা বন্দর সংযোগ সড়কটির উন্নয়ন কাজ, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদিও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চলমান থাকায় পরামর্শক সেবার কার্যপরিধি থেকে নেগোসিয়েশনের সময় এ সড়কটি বাদ দেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী নেগোসিয়েটিভ মূল্য নির্ধারন করা হয়। এ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ফেসবুক মন্তব্য
Share Button