শুক্রবার, ১০ Jul ২০২০, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সিলেট পাসপোর্ট অফিসে মার্কার সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় মানুষ

সিলেট পাসপোর্ট অফিসে মার্কার সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় মানুষ

সিলনিউজ ডেস্ক:: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরস্থ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস এখন ‘মার্কার সিন্ডিকেট’র নিয়ন্ত্রণে। কর্মকর্তাদের সহজে বুঝানোর জন্য নির্ধারিত মার্কার ব্যবহার করছে দালাল, কর্মকর্তা-কর্মচারী আর বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সির সম্মিলিত সিন্ডিকেট।

সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ঘুষবাণিজ্যের পুরনো পদ্ধতি পরিবর্তন করে গড়ে তোলা হয়েছে অফিসিয়াল ‘মার্কার সিন্ডিকেট’। আর নতুন করে গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তারা নিজেই। তাদের নিযুক্ত মার্কারদের ‘মার্ক’ ছাড়া গৃহীত হয়না পাসপোর্টের আবেদন। আর দু’একটা গৃহীত হলেও ফাইলবন্দি হয়ে থাকে মাসের পর মাস। মাঝে মধ্যে উধাও হয়ে যায় আবেদনকারীর ফাইলটি।

কর্মকর্তারা নিজেই বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির দালালদের পর্দার আড়ালে রেখে অফিসেই গড়ে তুলেন আরেক সিন্ডিকেট। আর এ সিন্ডিকেটের অঘোষিত নাম দেয়া হয় “মার্কার সিন্ডিকেট”। এ সিন্ডিকেটে রেখেছেন অফিসের নিজ আস্তাভাজন কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা যেসব আবেদন ‘মার্ক’ করে দেন সেগুলোই হয়ে থাকে ‘চ্যানেল পাসপোর্ট’। আর যেগুলোতে মার্ক করা হয় না এগুলো হয় ‘নরমাল বা নন চ্যানেল’ আবেদন। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির দালালরা এ মার্কার সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই পাসপোর্ট আবেদন ফাইল পাঠিয়ে দেয় অফিসের লাইনে।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বারবার ধর্না দিতে হয় অফিসের কর্তাব্যক্তি ও কর্মচারীদের কাছে। সরকারি নিধারিত ফ্রি থেকে দ্বিগুণ-তিনগুন টাকা গুনতে হয় আবেদনকারীদের। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, অনেক সময় অফিসের অনুসন্ধান বিভাগের কর্মচারীরা আবেদনের ফাইলগুলো উধাও করে ফেলেন। পরে বের করে দেয়ার নামে আলাদা টাকাও হাতিয়ে নেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।

নির্ধারিত দালাল আর ‘মার্ক করা’ নির্দিষ্ট আবেদপত্র ছাড়া পাসপোর্ট করাই যাচ্ছেনা সিলেট আঞ্চলিক অফিসে। লাইনে দাড়িয়ে আবেদন করলেও কোনো না কোনো অজুহাতে আবেদনের ফাইলটি আটকিয়ে ১ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে সিন্ডিকেটটি। জানা গেছে, একাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে অফিসের ভিতরে। অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তার হাত ছুয়ে আসা ঘুষবাণিজ্যের একটি চেইন গড়ে তুলেছেন কতিপয় কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

সরকার দুর্ভোগ কমাতে একদিনেই আবেদন জমা, ডাটা এন্ট্রি ও ফিঙ্গার নেওয়ার নিয়ম চালু করলেও এসব সিলেট পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীদের আজও অধরা। কারণ সিলেট পাসপোর্ট অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজই হচ্ছেনা। আবেদন জমা দিতে গিয়েও দালাল ধরতে হয়। লাইনে দাঁড়ালেও দ্রুত ভেতরে যেতে আনসার সদস্যদের ৫০ থেকে ২ শ টাকা দিতে হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© ২০১৭ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - সিলনিউজ২৪.কম
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web