মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে সিলেট জেলা ও এম সি কলেজ ছাত্রলীগের মানববন্ধন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর শোক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম আর নেই এমসি ছাত্রাবাসে গৃহবধুকে গণধর্ষনে জাতীয় মানবাধিকার’র নিন্দা জলবায়ু দূষণ বন্ধে ধর্মঘট এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে Fridays For Future (FFF) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পক্ষথেকে রুবেল মিয়ার সৌজন্যে দশঘরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন করোনা শনাক্ত করতে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি দিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সৌদি আরবে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে বিমান ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ছাতকে এনআরবিসি ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন
বিগত কয়েক দশকে এমন বিধ্বংসী সাইক্লোনের মুখোমুখি হয়নি কলকাতা

বিগত কয়েক দশকে এমন বিধ্বংসী সাইক্লোনের মুখোমুখি হয়নি কলকাতা

সিলনিউজঃ গত কয়েক দশকের মধ্য সবচেয়ে বড় দুর্যোগ তথা প্রলয়ে মুখোমুখি হতে হল কলকাতা। আইলা, বুলবুল কিংবা ফণী, কোনও ঘূর্ণিঝড়ই কলকাতায় এতটা শক্তিশালী প্রভাব ফেলেনি, যা ফেলল আম্পান। প্রায় আড়াই-তিন ঘণ্টার জড়ে লণ্ডভণ্ড করে দিল মহানগরের বিস্তীর্ণ অংশকে। শহরে ঘণ্টায় ১৩০ কিমি বেগে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে, সেই আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল আবহাওয়া দপ্তরের তরফে। যার জেরে তটস্থ ছিল কলকাতা পুর প্রশাসন। সেই আশঙ্কাই সত্যিই হল।

সকাল থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছিল। বুধবার বিকেল গড়াতেই ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে। গোটা শহর অন্ধকার ঢেকে যায়। তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় আম্পানের তাণ্ডবলীলা। মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ে শহরের একের পর এক গাছ ভেঙে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিপজ্জনক বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু বাড়ির অ্যাসবেস্টস ও টালির ছাউনি উড়ে গিয়েছে। এছাড়াও ভেঙে পড়েছে রাস্তার পার্শ্ববর্তী হোর্ডিং বোর্ড লাগানোর লোহার কাঠামো। কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের কর্তারা জানিয়েছেন, শহরে প্রায় ২০০টি’র উপরে ছোটবড় গাছ ভেঙে পড়েছে।

আইলা যখন সুন্দরবনের উপকূলে স্থলভাগে আছড়ে পড়েছিল, সেখানে তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫-১৩০ কিলোমিটার। আর কলকাতায় কার্যত আইলার লেজের ঝাপটা লেগেছিল। সেদিন কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৯০ কিলোমিটারের আশেপাশে। তবু কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল শহর। এবার তো শুধু শহরের উপরেই এতটা গতিবেগ বেশি ছিল, যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোথায় কী দাঁড়াবে, কেউ বুঝতে পারছেন না। সেই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আজ, বৃহস্পতিবার বোঝা যাবে বলে দাবি কর্তাদের।

কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুমে বসে পরিস্থিতি উপরে নজরদারি রাখতে রাখতে প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, শহরের বহু জায়গায় বাতিস্তম্ভ ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি একেবারে থামার পর কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে কলকাতার প্রশাসক শহরের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি দেখতে বের হন। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কর্তাদের কথায়, শহরে ৫৯টি বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে। সেগুলি থেকে লোকজনকে উদ্ধার করে সুরক্ষিত জায়গায় স্থানান্তর করা গেলেও অনেকে যেতে রাজি হননি। প্রায় সাড়ে সাত-আট হাজার লোককে স্থানান্তর করা গিয়েছে।

এদিকে এরই মধ্যে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের নূল আলি লেনে মহম্মদ তৌহিদ নামে এক যুবক টেলরিং-এর দোকানে শাটার বন্ধ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের রিজেন্ট পার্কে একটি পরিত্যক্ত কারখানার দেওয়াল চাপা পড়ে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ আলিপুর, ক্যামাক স্ট্রিট, রেড রোড, ম্যাডক্স স্কোয়ার, রানী দেবেন্দ্রবালা রোড, উল্লাসকর দত্ত সরণী, বোসপুকুর রোড, সি আর অ্যাভিনিউ, টালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, হরিশ মুখার্জি রোড ও বলরাম ঘাট রোড, চেতলা রোড, বিপিন পাল রোড, নিউ ট্যাংরা রোড, জাজেস কোর্ট রোড, গড়িয়াহাট সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এছাড়া, ট্রাফিক সিগন্যাল পোস্ট, বাতিস্তম্ভ উপরে গাছ পড়ে সেগুলি রাস্তায় ভেঙে পড়েছে। শহরে এদিন ব্যাপক পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। তবে সবক’টি নিকাশি পাম্প এদিন চলেছে। যদিও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিস্তীর্ণ অংশে জল জমে গিয়েছে।

সুত্রঃ বর্তমান

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© ২০১৭ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - সিলনিউজ২৪.কম
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web