শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১১:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সিলেট নগরীরতে ২ দিনে ২৭ টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সাবান ও মাস্ক প্রদান করেছেন প্রেসক্লাব সভাপতি শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট সাবান ও মাক্স প্রদান করলেন প্রেসক্লাব সভাপতি কর্মকর্তারা গরিব মানুষকে আঘাত বা লাঞ্ছিত করে কি আশায়! জকিগঞ্জ কাজলসার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ফেঞ্চুগঞ্জে এমপি সামাদের ত্রাণ বিতরণ ফেঞ্চুগঞ্জে ভাষা সৈনিকের বাড়ি দখলের চেষ্টা নবীগঞ্জে সাংবাদিক নির্যাতন : চেয়ারম্যানকে ধরতে পুলিশের অভিযান, সহযোগী গ্রেফতার মৃতের সংখ্যা ছাড়ালো অর্ধলক্ষ বাড়ির বাইরে কাউকে দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট
বাংলাদেশের আইটি সেক্টর ও একজন আরজু হোসেন

বাংলাদেশের আইটি সেক্টর ও একজন আরজু হোসেন

বাংলাদেশের আইটি সেক্টর ও একজন আরজু হোসেন

ফ্রিল্যান্সিং এর মতো স্বাধীন ও মুক্ত পেশার প্লাটফর্মে ওয়েলথি আফিলিয়েট কোম্পানির নাম শুনেননি এমন কেউ নেই বললেই চলে। ইউরোপ এবং আমেরিকায় যেসব নামকরা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে অফিসিয়াল কাজ করে থাকেন আর বিশ্বজুড়ে যারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আউটসোর্সিং করেন তাদের সিংহভাগের প্রথম পছন্দ এই ওয়েলথি আফিলিয়েট কোম্পানি।ওয়েলথি আফিলিয়েট একটি ব্রান্ড,একটি প্লাটফর্ম,বদলে যাওয়া পৃথিবীর আরেক নাম। সমগ্র পৃথিবী থেকে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইনে এই কোম্পানি থেকে আইটি সেবা নিয়ে থাকে। এই ২০ লক্ষ মানুষকে অনলাইনে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য নিয়মিত প্রতিবছর ৩০০০ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেয় স্বনামধন্য এই কোম্পানিটি।

আর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউটর ছিলেন বাংলাদেশের জাগ্রত, উদ্দ্যমী, দূরন্ত, স্বপ্নবাজ এক যুবক।দেশপ্রেম মমতাবোধ তার মানবিক হৃদয়কে যখন ভাবিয়ে তুলছিল, আর ঠিক তখনি সে তার কোম্পানিকে শর্ত জুড়ে দেয়, তিনি ফ্রিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তার পছন্দমত প্রার্থীকে এই কোম্পানিতে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দিবেন। তার কাজের দক্ষতা, ম্যানেজমেন্ট, নিয়মবর্তিতা, সৎ ও সচ্ছতা, তার স্কিল বিবেচনায় কোম্পানি অনিচ্ছা সত্যেও তার এই সিদ্ধান্তকে হাসিমুখে অভিবাদন জানিয়ে নিজের মতো করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মর্মে আমন্ত্রণ জানান।বর্তমানের খবর এই যে, তার এই সদূর প্রসারী চিন্তা বা উদ্যোগে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৩৫০ জন ছেলে মেয়ে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে এ কোম্পানিতে কাজ করছে।কাজ করছে এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়,প্রথমে তাদের এটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও যখন প্রশিক্ষণের পর কাজ করতে শুরু করে মূলত আশাটা জাগে তখন থেকে আর এখন তারা সফল।রাজু নামে একজন বলেন, পড়ালেখা করে চাকরির আবেদন করতে করতে করতে যখন হাঁপিয়ে গেলাম আরেকটা চেষ্টা তো করায় যায় এমন মন মানসিকতা নিয়ে তার সাথে যুক্ত হয়েছিলাম আর আজ সত্যি আমি অনেক খুশি ও আনন্দিত সফল হতে পেরে।মারিয়া নামে আরকেজন বলেন,
 
খুব ইচ্ছেছিল কর্পোরেট অফিসে জব করবো, অনেক স্যালারি পাবো কত কী স্বপ্ন! আর আজ সেই ব্যক্তির সহযোগীতায় আমার পুরো লাইফটায় কর্পোরেট হয়ে গেছে এবং আমি ও আমার স্বামী আমরা দুইজনেই একই ল্যাপটপে বাসার কাজের পাশাপাশি অনলাইনে কাজে সময় দিয়ে আসছি।আমরা সুখি আছি।
 
যার কথা বলা হচ্ছে, আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশ দম্পতির এক কৃতি সন্তান আরজু হোসেন।
 
আরজু হোসেন একাধারে একজন ওয়েব ডেভেলপার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং এসইও এক্সপার্ট। একসময় এই আরজু হোসেন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে দাপটের সাথে কাজ করেছেন এবং ছিলেন টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার।পাশাপাশি একজন আইটি বিশেষজ্ঞ হিসাবে তিনি কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে।বর্তমানে তিনি ওয়েলথি আফিলিয়েট এর মত একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান এর বিশেষ সরকারি হিসেবে কাজ করছেন ।বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা যখন আউটসোর্সিং নিয়ে কেবল ধারনা পাচ্ছে, সেখানে আরজু ভার্চুয়াল ইনকাম প্লাটফর্মে প্রফেশনালকে টপকিয়ে, বসের কারিশমায় ইশারা করছে বিশ্ব ভার্চুয়ালকে।
 
আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য তিনি ঢাকা উত্তরায় প্রতিষ্ঠা করেন আরজু আইটি ফার্ম এবং ছোট পরিসরে সিলেট এবং গাজীপুরে দুটি শাখা চালু করেছেন।
 
তিনি বলেন – আমি চাই আমার দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর কে সঠিকভাবে তুলে ধরতে। যাতে তারা তাদের কর্মসংস্থান খোঁজে পায়৷ এক্ষেত্রে আমি আমার সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাব৷ বাংলাদেশ ২০ লাখেরও বেশি বেকার মানুষ আছে এবং আমি প্রতিবছর অন্ততপক্ষে ৫০০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে অনলাইনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই এবং আমি মনে করি অনলাইনে বিশাল একটা চাকরি বাজার আছে যেটা আমরা চাইলে ধরতে পারি। আমি চাই আমার দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর কে সঠিকভাবে তুলে ধরতে। যাতে তারা তাদের কর্মসংস্থান খোঁজে পায়৷ অনেকে টিউশনি খুঁজে পাননা কিংবা টিউশনির ফি দিয়ে আবার নিজের টিউশন ফি টা জুটছে না। আবার অনেকে না পেরে কোম্পানি গুলোতে জব করছেন।সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা ওভারটাইম করে পড়ালেখা বা রেজাল্টে খারাপ করছে অনেকে আবার চাকরি খুঁজছে কিন্তু হচ্ছে না হতাশায় ভুগছে।অনেকে আবার টাকা ছাড়া চাকরি নেই,আমার টাকা নেই তাই চাকরি নেই এমন ভাবনায় গার্মেন্টসে পর্যন্ত কাজ করছে। আমি আমার সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাব এদের জন্য সর্বোচ্চটা করার।আমার সেরাটা উপহার দেওয়ার।
 
সম্প্রতি কবি ও সাংবাদিক হাবিলুর রহমান জুয়েলকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আরজু।
 
যেখানে উঠে এসেছে সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কথা। পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারটি হবুহু তুলে ধরা হলো,
 
 
প্রশ্ন: বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর নিয়ে ধারণা কম কেন ?
 
 
আরজু হোসেন: শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর নিয়ে ধারণা কম হওয়ার কারণ তারা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে নিজেকে আপডেট করে না এবং তারা যখন আইটি প্রশিক্ষণ নিতে যায় তখন তারা সঠিক প্রশিক্ষণ পায় না ৷ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবসময় আইটি সেক্টর নিয়ে চিন্তা করার পূর্বেই আপনি দেখবেন ভুয়া কিছু এপস এসে তাদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করে। কিন্তু মূলত এরা কোন বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান না। এজন্য পিছনে হারিয়ে যায় বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা।
 
 
প্রশ্নঃ ভুয়া এপস এবং আউট সোর্সিং সম্পর্কে কিছু জানতে চাই ?
 
 
আরজু হোসেন: এপস সবগুলো ভুয়া নয় কিন্তু আসল এপসগুলো ঠিকই তাদের কাজ করছে নকল এপসগুলো মানুষকে প্রতারিত করে। আউট সোর্স মূলত কাজের উপর নির্ভরশীল। এ ব্যাপারে অনেকে না বুঝে ধোকা খায়। আপনি যদি ওয়েব ডেভলপার হোন অবশ্যই আপনার সে কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে পাশাপাশি আপনি যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে করছেন তার সক্ষমতা জানাটা জরুরি।বর্তমানে মার্কেটপ্লেসে ছেলেমেয়েরা কাজ পাচ্ছে না তার কারণ আমাদের ছেলেমেয়েরা সময়ের সাথে নিজেকে আপডেট করিনি কারণ পাঁচ বছর আগে তারা যা শিখেছিলো বর্তমানে তা মার্কেটে নাই এবং এগুলো অনেক আপডেট হয়ে গেছে তাই আমাদের ছেলেমেয়েরা আর নতুন করে কাজ পাচ্ছে না। এবং তার পরে রয়েছে ভালো প্রশিক্ষকের অভাব। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যে সমস্ত কাজ আছে তা আমাদের বেকার যুবকদের জন্য খুবই কম। আমি মনে করি,মার্কেটপ্লেসের বাইরে আইটি সেক্টরে কাজ খোঁজার চেষ্টা করা উচিত আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের। আপনি একটু ভেবে দেখুন ফেসবুক, গুগল, ইয়াহু এরকম অনেক বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে পুরো পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ থেকে হাতেগোনা মানুষ আপনি পাবেন। আমি মনে করি,শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে দিকে যদি আমরা তাকিয়ে থাকি তাহলে আমাদের দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের সঠিক কর্মসংস্থান করতে পারবোনা তাই আমাদের এই সেক্টর গুলোতে গুরুত্ব দেয়া উচিত।
 
 
 
প্রশ্ন:আমরা জানি আপনার বাবা মা দুজনই মার্কিন প্রবাসী কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে বাবা-মাকে ছেড়ে আপনি কেন বাংলাদেশে আছেন ?
 
 
আরজু হোসেন: আমি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কর্তব্য মনে করি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা। এজন্য আমার এই পরিশ্রম।
 
 
প্রশ্ন: আপনার আরজু আইটি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কি?
 
 
আরজু হোসেন: যেহেতু আমাকে বাংলাদেশ থেকে আইটি এক্সপার্ট সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেজন্য আমি চাই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইটি সেক্টর ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মাধ্যমেই বাছাইকৃত এক্সপার্ট বিদেশের প্রতিষ্ঠানে কাজের উপযুক্ত করা । এতে অনেক শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের নাম উজ্জ্বল হবে।
 
 
প্রশ্ন: শিক্ষার্থীরা কিভাবে আপনার আইটি সেক্টরে যুক্ত হবে?
 
 
আরজু হোসেন: আমার আইটি ফার্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে অনলাইনে কোর্স করানো যাতে করে যারা গ্রামে থাকে এবং শহরে এসে কোর্স করতে পারে না এবং যারা অর্থের দিয়ে কোর্স করতে পারেনা তাদের কে ফ্রিতে পরিপূর্ণ কোর্স করানো। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে যে কেউ রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করে আমাদের এই আইটি সেক্টরে যুক্ত হতে পারে। আমার অনলাইন কোর্স এর মধ্যে ওয়েব ডেভলপিং এন্ড ডিজাইন, এসইও এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন রয়েছে।যে কেউ এখানে কর্পোরেট ক্যারিয়ার গড়তে পারে।নিজেই নিজের জীবন বদলে দিতে পারে।
 
আমি দিন বদলের স্বপ্ন দেখি, আমি এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মুক্ত চিন্তা করি।
 

রেজিষ্ট্রেশন জয়েন্ট ও সকল তথ্যাদির জন্য আগ্রহীরা ভিজিট করতে পারেন www.arzuit.com এই ঠিকানায়।

 
 
প্রশ্ননকারী: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
 
আরজু হোসেন: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
 
 
সাক্ষাৎকার: হাবিলুর রহমান জুয়েল
 
সংকলন ও সম্পাদনা: রুবাইত হাসান

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© ২০১৭ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - সিলনিউজ২৪.কম
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web