বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল লেবানন, নিহত ৫০, জাতীয় শোক ঘোষণা ( ভিডিও) ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল নেবানন, নিহত ৫০, জাতীয় শোক ঘোষণা ( ভিডিও) ভৈরবে কোরবানির মাংস বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত অক্টোবর থেকে নিজেদের তৈরি ভ্যাকসিন গণহারে প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের জনগণ সব সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলে : প্রধানমন্ত্রী নবীগঞ্জে ব্যবসায়ী ইকবালকে অশ্রুসিক্ত ভালবাসায় শেষ বিদায়, এমপি মিলাদ গাজীর শোক আজ থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি নবীগঞ্জবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি সদস্য মতিউর রহমান চৌধুরী হবিগঞ্জ বাংলাদেশ বাউল ফোরাম ইউকে’র কার্যালয় উদ্বোধন ও শিল্পীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ প্রবাসের ঈদ : হেনা বেগম
নবীগঞ্জে সৎ মায়ের কবল থেকে শিশুকন্যাকে বাঁচাতে গিয়ে বেপরোয়া স্ত্রীর দায়ের কোপে স্বামী রক্তাক্ত

নবীগঞ্জে সৎ মায়ের কবল থেকে শিশুকন্যাকে বাঁচাতে গিয়ে বেপরোয়া স্ত্রীর দায়ের কোপে স্বামী রক্তাক্ত

এম.মুজিবুর রহমান, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকেঃ প্রতিবন্ধী শিশু মারজানা আক্তার তার বয়স যখন মাত্র ১৯ দিন তখন হঠাৎ করেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান না ফেরার দেশে। রেখে যান পৃথিবীতে ১৯দিন বয়সী একটি মাত্র দুধের শিশুটিকে৷ তার মা মারা যাবার পর পরই এই দুধের শিশু মেয়েটিকে লালন পালণ করেন তার দাদী। দাদীর কোলেই মায়ের আদর যত্নে থাকতো সে। প্রায় ৩ বছর পরই তার বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। প্রথমত অবস্থায় স্বামীর সংসারে নববধূ রোজিনা বেগম হয়তো মা হারানো শিশু মারজানাকে নিজের সন্তানের মতোই আদর যত্ন করতেন! না হয় লোক দেখানো! তবে কিছু দিন যেতে না যেতেই সৎ মা রোজিনা তার আসল রূপ ধারণ করেন। শিশু মেয়েটিকে তিনি মোটেই সহ্য করতে পারতেন না, শিশুটির লালন পালন করতে তিনি অনীহা প্রকাশ করলে তাকে প্রাণপণ চেষ্টা করে বুঝিয়ে মারজানা আক্তারকে লালন পালন করানো হতো৷ কেটে যায় মারজানার জীবনের দুঃখ কষ্টের ৭টি বছর। এরই মধ্যে মারজানার একটি পা বিকলাঙ্গ, সে (প্রতিবন্ধী) মারজানার যেন কষ্টের শেষ নেই। একদিকে যখন সে মা হারানো এতিম অপরদিকে দিনমজুর বাবা আব্দুল আহাদ সারাদিন জীবিকার তাগিদে গ্রামেগঞ্জে থাকেন কর্মক্ষেত্রে। অনেক রাতে তার বাবা বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন মেয়েটি ঘুমিয়ে আছে। অনেকদিন সকালে আবার শিশু মেয়েটিকে ঘুমে রেখেই চলে যান কাজের সন্ধানে। এভাবেই চলতে থাকে মারজানার জীবন। অনেক সময় না খেয়েই ঘুমিয়ে যেতো সে৷ মা হারানো শিশুটির জীবন এভাবেই চলতে থাকে দুঃখে কষ্টে সৎ মায়ের সংসারে৷ অপরদিকে তার সৎ মা রোজিনা বেগমের চোখে যেন শিশুটি বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শিশু মারজানাকে প্রায় সময়ই মারপিট করতো রোজিনা। একপর্যায়ে মারজানার প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে তার সৎ মা রোজিনা বেগম তাকে ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেলে একটি ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে মারপিট করে তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্য গলায় গামছা বেধেঁ শাসরূদ্ধ করার চেষ্টাকালে সাথে সাথেই বাড়িতে এসে হাজির হন তার বাবা আব্দুল আহাদ।রাখে আল্লাহ মারে কে..? একথাটি আবারো সূর্যের মতো পরিস্কার হল। তাৎক্ষণিক মেয়েটির কান্নার চিৎকার শোনে তিনি ঘরের দরজা সুকৌশলে খোলে এমন অবস্থা দেখে প্রথমে মেয়েটিকে সৎ মা নামের ডাইনীর কবল থেকে উদ্ধার করেন৷ এসময় তিনি তার স্ত্রী রোজিনাকে কঠোরভাবে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে একপর্যায়ে রোজিনা তার স্বামীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বারান্দা থেকে একটি ধারালো দা’ এনে তার উপর হামলা করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়৷ তাদের এই হট্টগোল ও মারামারির ঘটনার শোর চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে আব্দুল আহাদকে উদ্ধার করে নিয়ে যান নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার চিকিৎসা চলছে৷ একথাগুলো কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের নিকট প্রকাশ করেন হতভাগা শিশুর পিতা আব্দুল আহাদ। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের মশুদ মিয়ার পুত্র৷ এ ঘটনার বর্ণনাকালে হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিক ডাক্তারসহ সবাই হতবাক হয়ে যান৷

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© ২০১৭ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - সিলনিউজ২৪.কম
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web