বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

একজন ডাঃ মইন : আকাশপূর্ণ ভালোবাসায় যার বিচরণ

একজন ডাঃ মইন : আকাশপূর্ণ ভালোবাসায় যার বিচরণ

ডাঃ মইন উদ্দিন সিলেটের প্রথম করোনা পজিটিভ পারসন। তাকে নিয়ে বেশ ক’দিন থেকে নানা মাধ্যমে বিভিন্ন টিভি, নানান সময় লাইভে ও ফেসবুকে বলার চেস্টা করছিলাম। তিনি আমার পুর্ব পরিচিত। ২০০২ সাল থেকে চিনি। পিতৃহীন মেধাবী ডাঃ মইন উদ্দিনের গার্জিয়ান আমার শশুর। মইন ভাইয়ের খবরটায় মুষড়ে যাওয়ায় নানা কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে আমরা ভাল রেখেছি। মইন উদ্দিন উনার কাছে কি সেটা বললে কয়েক পৃষ্ঠা লাগবে। সেই সুবাদে আমার সাথে অনেক গুড রিলেশন। আমাদের কাছে প্রতিদিনের খবর আসে তিন বার।” মেধাবী” শব্দটা ডিকশনারি তে লেখা হয়েছে মইন উদ্দিন এর জন্য। আর” আল আমিন” নামে আরবিতে যে শব্দটা সেটাও মইন ভাইয়ের জন্য।
বিস্তারিত বলার আগে বলি, তিনি এই মুহুর্তে ভাল আছেন। কখনও কথা বলেন, কখনো অক্সিজেনের সাহায্যে থাকেন।। আকাশ কখনও কাদে কিনা জানিনা, তবে উনার জন্য আকাশ কাঁদে ।। আমি জীবনে অনেক আইডল দেখেছি, উনার মত আইডল কম জন্মায়। ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকার নাদামপুর নামক গ্রামের বাতাসে কান্নার সুর আমরা শুনছি। ২০ বছর থেকে নিজ গ্রামে সপ্তাহে ১/২ দিন, শত ব্যাস্ততার মাঝে ফ্রি রোগি দেখেন। কখনও উচ্চ স্বরে কথা বলেননি।
আমার সাথে হাতে গোনা ১৮ বছরে ৫/৬ বার দেখা, উনি আমাকে উল্টো রেসপেক্ট করেন, আমার বিভিন্ন কাজ খুঁটিয়ে খুটিয়ে জিজ্ঞেস করেন। বি বাড়িয়াতে কিভাবে চ্যারিটি করি। নানা বিষয়ে আমাদের আলাপ চলে।
আর আমি উনার গুন ও সহজ সরল্যে বিমুগ্ধ। মইন উদ্দিন ভাইয়ের তিন বোন। সবাই সু শিক্ষিত। উনি আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। গত পুরো মার্চ মাস টায় উনার ফেসবুকে করোনার পোস্ট প্রতিদিন। তিনি পজেটিভ ধরা পড়ার পুর্বে নিজে হোম কোরারেন্টাইন এ ছিলেন, নিজে বাসার তৃতীয় তলায় একটি রুমে বসবাস করতেন, ফ্যামিলী থাকতেন অন্য তলায় ।। কতটা সচেতন তা বোঝাবার জন্য উল্লেখ করলাম।
যাক, সিলেটে যদি কার্ডিওলজির স্বনামধন্য ২/৩ জন্ ডাক্তারের নাম লেখা হয় মইন উদ্দিন ভাই একজন। সারা জীবন নাকি পড়াশোনার মাঝে ডুবে ছিলেন, বাহিরের জগত থেকে ছিলেন বিচ্ছিন্ন। অসম্ভব মেধাবী, আরেকটা জিনিস খুব কম রোগী দেখতেন একজন রোগী উনার চেম্বার থেকে বের হত হাসিমুখে, কোয়ালিটি প্রাকটিস করতেন, রাতে যখন ইবনে সিনার রোগীদের ভিজিট করতেন উনার জন্য রোগীরা উদগ্রীব থাকতো, উনার ব্যবহারে রোগী অর্ধেক ভাল হত । গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত রোগী দেখতেন ফ্রি। তারপরও তিনি বৈষয়িক ভাবে ডাক্তারী করেই স্বচ্ছল । এটা উল্লেখ করলাম, যারা রাত দিন রোগী দেখে ৩/৪ মিনিটে ৬০০/৭০০ টাকা নেন, ১৮ ঘন্টা ডাক্তারি করে তাদের কত টাকা হতে পারে।
এই যে শহরের সবাই উনার প্রশংসা করছেন, তা উনার ব্যবহার ও কোয়ালিটি প্রেকটিসের জন্য। তিনি বিনা ফিতে রোগী দেখতেন তার চেম্বারেও। মেডিকেল রিপ্রজেনটিভদের কে সম্মান করতেন, তাদেরও একটা কঠিন জীবন তিনি বুঝতেন।
( সিলেটে নানা অপপ্রচার )
জীবনে যা কিছু ঘটে আল্লাহর ইচ্ছায়। হাসপাতাল নিয়ে লিখব না। প্রশাসনের অবহেলাতো আছেই। মইন ভাইয়ের স্ত্রী একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। উনারা যে কোন কারনে সিলেটে নিরাপদ মনে করেন নি। তাই পারিবারিক সিদ্বান্তে ঢাকায় স্থানাত্তর। হেলিকপ্টার কোম্পানি গুলো করোনা রোগী বহন করতে অপারগ, নানা অজুহাতেই । ডাঃ নাজমুস সাকিবের সহযোগিতায় ওয়েসিসের সিলেটের “একমাত্র বিশেষায়িত এম্বুলেন্স” “যার ড্রাইভারকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার খরচ” নিশ্চিত করে রওয়ানা হলেন।।
যে কোন মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খবর জেনে মইন উদ্দিন ভাইকে মর্যাদার সহিত দেখভালের অনুরোধ করেন। মইন উদ্দিন ভাই ঢাকা পোছার পুর্বেই চিন মৈত্রী বিশেষ হসপিটাল কর্তৃপক্ষ উনার জন্য পুর্ন অপেক্ষায় ছিলেন, সাজ সাজ রব ছিল এই মানবিক ডাক্তারের জন্য্। এই মানবিক ডাক্তারের জন্য এটাই প্রাপ্য ছিল, কারন তিনি যা করেছেন জীবনে তা তার প্রাপ্য।।
যে কোন টানা হেচড়ায় বাধ্য হয়ে পরিবার তাকে ঢাকা নিয়ে যান।। একজন অধিক সচেতন করোনা রোগীকে এইডস রোগীর সমপর্যায়ে ফেলা হচ্ছিল। অনেক নির্বোধ উনার সামাজিক অবস্থান না জেনে নানান অপপ্রচার করছিল, তারা জানে না, এই ডাক্তার কতটা মেধাবী। উনার ক্যারিয়ার যারা সিলেটের মেডিকেল ফিল্ডের তারা জানেন।
ঢাকায় যাদের তত্বাবধানে তিনি আছেন তারা কাকতলীয় ভাবে উনার ছাত্র ও বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি ধারী।। তারা করোনা স্পেশালিষ্ট।। ছাত্ররা ফেসবুকে লিখছে স্যারের সেবা করছি ২৪ ঘন্টা কাজ করেও টায়ার্ড না। মইন উদ্দিন ভাইয়ের সবচেয়ে উন্নতর চিকিৎসা হচ্ছে, বাকি আল্লাহর উপর। ছোট বাচ্চারাও অনেক ধৈর্যশীল হয়ে গেছে। উনার স্ত্রী একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক উনিও সব কিছু একা হ্যান্ডেল করছেন। যেহেতু তিনি চিকিৎসক তাই সব কিছু তিনি ভাল জানেন।অনেক গুনের অধিকারী এই পরোপকারী মানবিক ডাক্তার “ডাক্তারদের আইডল” । তিনি হেরে যেতে পারেন না। উনার উপর নির্ভর করে থাকে অর্ধশত অভাবী পরিবার, যাদের তিনি সহযোগিতা করেন।আপনারা সবাই মইন উদ্দিন ভাইয়ের জন্য দোয়া করেন।” তিনি সর্বশেষ খবর ভাল আছেন। বাকি দোয়ার উপর। “
আর সরকারের দোষারোপ করে লাভ নাই, তারা তাদের মত চেষ্টা করছে ।সরকার কখনও নাগরিকদের মনোবল ভেঙ্গে যেতে দিতে পারে না।আমাদের সরকার যে সময়টাতে সবাইকে বাড়িতে রাখার জন্য পেটাচ্ছে, এই কাজটা যদি আমেরিকা করতে পারত তাহলে আমেরিকার লাখ খানেক ( এক্সপেকটেড) মারা যেত না।
সরকার সবাইকে খাবার পৌছে দিচ্ছে। পৃথিবীর এমন কোন সভ্য দেশ নাই , যে দেশে ফোন করলে বাড়িতে খাবার পৌছানো হয়। যা বাংলাদেশে হচ্ছে। আমি আমার দেশ নিয়ে গর্ব করি। খাবারের জন্য কেউ মরবে না। এই সত্যিটা কে মানে, কে মানে না সেটা বিষয় না। সরকার চেস্টা করছে। ৩৩৩ এই নাম্বারে কল দিলে খাবার পাচ্ছেন। আর দু একটা ইন্সিডেন্ট মানে চুরি চামারি হবেই। তার কোন শতাংশে পড়ে না।।আমেরিকায় ও লন্ডনে দিনে ১০০০ মানুষ মরছে। কত উন্নত দেশ, কত সভ্য দেশ, কত আন্তর্জাতিক মানের ডাক্তার, কত ফ্যাসিলিটিস। মইন উদ্দিন ভাইয়ের অবস্থা একটি উদাহরন মাত্র।।

এই ঘুনে ধরা সমাজ, এই সমার্থ, এই রাজনীতি, এই অপরাজনীতি, অপপ্রচার আমাদের ই। আমাদের মানুষরা করে।।
আমি অপলক দৃষ্টিতে বাংলাদেশের পুলিশের মানবিক দিকটা দেখে স্বপ্ন দেখি, কারন পুলিশের ভাল দিক আমাকে আশা জাগায়।

সবাই, এক মিনিটের জন্য মইন ভাইয়ের জন্য দোয়া করি। সাথে সাথে সবাই আমরা মানবিক হই।।অনেক মানবিক, অনেক দিলখোলা হতে হবে।(আমিন) 

জুয়েল সাদত
সাংবাদিক -কলামিস্ট
আমেরিকা
১০ এপ্রিল /২০২০ 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© ২০১৭ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - সিলনিউজ২৪.কম
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web