বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২০ অপরাহ্ন

একজন আজাদ : তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক সফল রাজনীতিবিদ

একজন আজাদ : তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক সফল রাজনীতিবিদ

দুর্দিনে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির ইতিহাস বিচার বিশ্লেষণ করলে একটি পরিবারের নাম গতানুগতিকভাবেই চলে আসে। আর সেটি হলো সিলেট সিটি কর্পোরেশন’র টানা চারবারের নির্বাচিত জননন্দিত কাউন্সিলর ‘আজাদুর রহমান আজাদ’র পরিবার। আজাদুর রহমান আজাদ সমগ্র সিলেটের শুধু রাজনৈতিক মহলই নয়.. বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, ক্রীড়াঙ্গন সবকিছুরই এক মিশ্র অনুভূতির নাম। কাউন্সিলর আজাদ সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ও বেড়ে ওঠা এক আপাদমস্তক কর্মীবান্ধব নেতা। হাজারো ছাত্রনেতা তৈরির এক সুনিপুণ কারিগর তিনি। তার বড় ভাই আজিজুর রহমান মানিক ছিলেন বৃহত্তর টুলটিকর ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান। তিনি যখন চেয়ারম্যান ছিলেন তখন টুলটিকর ইউনিয়নের সীমানা ছিল এখনকার প্রায় একটি আসনের সমান। প্রচলিত আছে, মানিক চেয়ারম্যান যেখানেই বিচারে যেতেন সেখানে যতো বড়ই সমস্যা থাকুক না কেন তা সহজেই সমাধান হয়ে যেতো। আজাদুর রহমান আজাদের মেঝো ভাই মরহুম সাজ্জাদুর রহমান সাজু ছিলেন সিলেট পৌরসভার তৎকালীন ৯নং ওয়ার্ড এর মিশনার (বর্তমান ২০ ও ২১নং ওয়ার্ড)। ৯নং ওয়ার্ড (তৎকালীন) তথা টিলাগড় এর জনগণের সুখ দুঃখে সর্বদাই পাশে দাঁড়ানো ছিলো তার লক্ষ্য। সিলেট সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের চরম দুর্দিনে যখন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে উঠতে পারেনি, তখন এই সাজু ভাইয়ের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কলেজে অবস্থান নেয়। শুধু তাই নয়, ছাত্রলীগের যেকোনো প্রোগ্রামের খাওয়া দাওয়াও রান্না করা হতো তার বাসায়। কাউন্সিলর আজাদের মা ছাত্রলীগের ছেলেদের নিজের সন্তানতুল্য মনে করতেন।

নগরীর শিবগঞ্জস্থ সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে কাটে আজাদুর রহমান আজাদ এর স্কুল জীবন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় স্কুল জীবনেই আকৃষ্ট হন ছাত্রলীগের প্রতি। এরই ধারাবাহিকতায় এক সময় স্কুল ছাত্রলীগ শাখার সভাপতিও নির্বাচিত হোন তিনি। স্কুল জীবন শেষে সিলেটের ছাত্ররাজনীতির আতুরঘরখ্যাত সিলেট সরকারি কলেজে ভর্তি হোন। সেখানে নিজের শ্রম, মেধাগুনে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হোন। এরপর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হলে পরবর্তীতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হোন। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলে টিলাগড় তথা ২০নং ওয়ার্ডের জনগণের স্নেহ ভালোবাসাকে পুঁজি করে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন’র প্রথম নির্বাচনে (২০০৩ সালে) ২০নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করেন। উক্ত নির্বাচনে জনগণ তাদের ভালোবাসার প্রমাণ দিয়ে বিপুল ভোটে তাকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করেন। তারপর থেকে আজ অবধি টানা চারবার ২০নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

ছাত্র রাজনীতি শেষে সম্পৃক্ত হোন সিলেট জেলা যুবলীগ এর রাজনীতিতে। সেখানেও নিজের নিখুঁত নেতৃত্বের প্রমাণ রাখেন তিনি। পরবর্তীতে সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হোন। তারই ধারাবাহিকতায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ’র রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ’র প্রতিষ্টাকালীন কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হোন এবং পরবর্তীতে শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক (বর্তমান) নির্বাচিত হোন। শুধু তাই নয়, রাজনীতির বাইরেও তিনি শিক্ষাঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গন, ধর্মীয় সবকিছুতে সমানভাবে বিচরণ করেন।

জনগণের সুখে দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এক অনুভূতির নাম আজাদুর রহমান আজাদ এবং জনগণের এই অনুভূতি একদিনে তিনি সৃষ্টি করেননি। এর জন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ ৩২ বছরের কঠিন পথ। তাকে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক হামলা মামলা ষড়যন্ত্র মোকাবেলার কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাকে। ১/১১ কারা নির্যাতন, একুশে আগষ্ট বোমা হামলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দুর্যোগের একটি অংশও তিনি। সিলেটের হাজারো ছাত্রনেতার রাজনৈতিক আইডল তিনি। সিলেটের মাটি ও মানুষের এক অনন্য অনুভূতির নাম আজাদুর রহমান আজাদ।

আসন্ন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ’র সম্মেলনকে সামনে রেখে সিলেটের আপামর জনতার একটাই প্রাণের দাবী, সময়ের দাবীকে যেনো মূল্যায়িত করা হয়। আর এখন একমাত্র সময়ের দাবী জনতার আজাদুর রহমান আজাদকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

লেখকঃ মনসুর মোর্শেদ

সাবেক সদস্য,  সিলেট জেলা ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© ২০১৭ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - সিলনিউজ২৪.কম
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web