সোমবার, ০১ Jun ২০২০, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে বিদেশ যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে বিদেশ যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

সিলনিউজ অনলাইনঃ উন্নত জীবনের আশায় ও দালাল চক্রের দেখানো বেশি টাকা রোজগারের জন্য জীবনবাজি রেখে অবৈধ পথে বিদেশ যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। এতে দালালের ফাঁদে পড়ে তাদের ভাগ্যে জুটছে ভয়াবহ পরিণাম। সাগরপথে মানব পাচার হয় কক্সবাজার, টেকনাফ দিয়ে। এভাবে বিদেশযাত্রায় মারা যান বেশিরভাগ মানুষ, নিখোঁজ হয়েছেন অনেকে, জিম্মি করে মুক্তিপণের ফাঁদে পড়েন কেউ কেউ, অনেকে বিক্রি হন ক্রীতদাস হিসেবে।নিজ দেশে নির্যাতন আর নিগ্রহের শিকার রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে সমুদ্রের ভয়কে জয় করে আশ্রয়ের জন্য অন্য দেশের সীমান্তে প্রবেশ করা শুরু করে। এশিয়ার মধ্যে এই পথে সবার গন্তব্য থাকে মালয়েশিয়া।

প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারো কক্সবাজার থেকে সমুদ্রপথে শুরু হয়েছে অবৈধভাবে বিদেশ গমন। তবে পুরনো কায়দা থেকে সরে এসে পাচারকারীরা নিয়েছেন নতুন কৌশল। থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ায় সরাসরি ট্রলারভর্তি লোক পাঠানোর ঝুঁকি না নিয়ে পাচারকারীরা এবার রোহিঙ্গাদের গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজে তুলে দিচ্ছে। এরপর বড় জাহাজ তাদের গোপনে নিয়ে যাচ্ছে থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ায়।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ৩৩ দফায় পাচারের সময় ৯০০ জনকে আটক করে ফেরত পাঠিয়েছে কোস্টগার্ডসহ আইনশৃংখলা বাহিনী।

গত আড়াই বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পালানোর সময় ৬৮ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়। কক্সবাজারের বাইরের ঢাকা, নরসিংদি, বরগুনাসহ ১৭ জেলার ৫ হাজার জন উদ্ধার হন পাচারের সময়। সমুদ্রপথে মানব পাচারে দালালরা এখন ব্যবহার করছে অভিনব কায়দা। ছোট বোটে তোলা হয় ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ। এরপর চট্টগ্রাম কিংবা মংলা বন্দরে পণ্যসামগ্রী খালাস শেষে থাইল্যান্ডগামী জাহাজে তাদের তুলে দেয়ার চেষ্টা চলে।

এসব জাহাজে করে শুরু হয় ভয়াবহ অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রা। মঙ্গলবার টেকনাফের সেন্টমার্টিন্সে ট্রলারডুবি থেকে উদ্ধার হওয়া লোকজনও এমন তথ্য দিয়েছে আইনরক্ষা বাহিনীকে। এ ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে ১৫ জনের তাদের সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

অবৈধপথে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া পৌঁছানো ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মানব পাচারের শিকার হয়েছে। এসব যাত্রায় কতজন মারা গেছে তার কোনো হিসেব নেই। একই বছর থাইল্যান্ডের সংখ্যলা প্রদেশে গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় ২৬টি মৃতদেহ।

তবে থাইল্যান্ডের পার্বত্য এলাকায় জীবিত অবস্থায় শতাধিক অভিবাসীর সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। যারা মিয়ানমারের নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। থাই জঙ্গলের ওই শিবিরগুলো এবং পাদাং বেসারের চারপাশের কৃষি এলাকাগুলো মানবপাচারের আখড়া। ২০১৪ সালে যারা মারা গেছেন এদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে ক্ষুধা-তৃষ্ণা আর নির্যা‌তনে। অনেকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হন।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সরকারকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে হয়। ফলে কিছুটা হলেও নিস্ক্রিয় ছিল আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রগুলো। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাপকহারে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়ার পর আবারো তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কাজ করছে এমন সংগঠনগুলো বলছে, সাগরপথে মানব পাচারের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। শ্রমবাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার পথ সহজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেশি সেখান থেকে লোক পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কর্মী প্রেরণ ও মানব পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদও দিয়েছেন তারা।

যেসব স্থান দিয়ে মানব পাচার হয়- কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছটা, ফিশারিঘাট, নাজিরাটেক, সমিতিপাড়া, মহেশখালীর সোনাদিয়া, গোরকঘাটা, কুতুবজোম, ধলঘাটা, উখিয়ার সোনারপাড়া, রেজুরখাল, ইনানী, ছেপটখালী, মনখালী, টেকনাফের বাহারছড়া, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, ঘোলারপাড়া, মাঝরপাড়া, পশ্চিমপাড়া, কাটাবনিয়া, খুরেরমুখ, হাদুরছড়া, জাহাজপুরা, কচ্ছপিয়া, শামলাপুর, সদরের ঈদগাঁও, খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডী, পিএমখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়াসহ অন্তত ৬০টি স্থান (পয়েন্ট) দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সমুদ্রে নেমে বিপদে পড়ছেন।

ইন্ডিপেনডেন্টটিভি

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© ২০১৭ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - সিলনিউজ২৪.কম
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web