বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেনের আহবান

অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেনের আহবান

গত ১৫ জুন প্রয়াত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সাবেক মেয়র, জনতার নেতা ও নগরপিতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। শহর থেকে নগর হিসেবে সিলেটের যখন জন্ম হয় তখন থেকেই নগরপিতা পরিচয়টি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ১৯৬৯ সালে সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে ‘পাকিস্তান দেশ ও কৃষ্টি’ নামে একটি বিষয় পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদ আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিছিলের যাত্রা ও রাজনীতির শুরু।পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাবস্থায় ১৯৭২ সালে তিনি সিলেট পৌরসভার ৩নং তোপখানা ওয়ার্ড থেকে দেশের সর্বকনিষ্ঠ পৌর কমিশনার নির্বাচিত হন। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর এম.সি কলেজে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তিনি সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। পরবর্তীতে তিন বার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। কমিশননার থেকে শুরু তারপর পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচিত হন। সবার কাছে তিনি ‘মেয়র কামরান’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। ১/১১ থেকে শুরু করে এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচী নেই যেখানে মেয়র কামরানের সম্পৃক্ততা নেই।তিনি বারবার নির্যাতিত ও গ্রেনেড হামলারও শিকার হয়েছিলেন। মেয়র কামরান সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত ছিলেন। বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে এমন কোনো অনুষ্ঠান নেই যেখানে তিনি ছিলেন না। তিনি গরীবের কামরান হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সুখে দুঃখে সবসময় নগরবাসীর সাথেই তিনি ছিলেন। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি নগরবাসীকে অনেক কিছু দিয়েছেন। নগরের ২৭টি ওয়ার্ডে মেয়র কামরানের উন্নয়নের ছোঁয়া রয়েছে।

সম্প্রতি তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ যেন তাহাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এটাই সবার দোয়া।

মেয়র কামরান যেহেতু তিনি নগরবাসীর সুখে-দুঃখে ছিলেন সেহেতু উনার স্মৃতিকে ধরে রাখার দায়িত্ব নগরবাসীর রয়েছে।। তাই গত ১৬ জুন দৈনিক সিলেট নিউজ পোর্টালের লাইভ অনুষ্ঠান ‘জনতার কামরান’ এসে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতীক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি মহোদয় ও সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে আহবান জানিয়েছিলেন- জনতার কামরানের স্মৃতি রক্ষার্থে সিলেট শহরের কোনো প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও পয়েন্টকে তার নামে নামকরণ করার জন্য। তিনি বলেন এতে করে রাজনীতিবিদরা উৎসাহ উদ্দীপনা পাবে মানুষের জন্য কাজ করতে। এই অনুষ্ঠানে আসার আগে বিভিন্ন সাংবাদিকরা অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেনকে প্রশ্ন করেছিলেন যে আপনারা মেয়র কামরানকে নিয়ে কী ভাবছেন তখন তিনি বলেছিলেন আমরা তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছি পাশাপাশি আমি ব্যাক্তিগতভাবে সিটি কর্পোরেশনের সকল কাউন্সিলর ও মেয়রের কাছে আহবান জানিয়েছি জনতার কামরানের নামে সিলেট শহরের কোনো প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও পয়েন্টকে নামকরণ করার জন্য। তিনি বলেন মেয়র কামরান ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুতরাং আমার দল ও নগরবাসীর পক্ষেও এই আহবান। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মেয়র মহোদয় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন আলোচনা করে আমরা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিব স্থাপনা তৈরি করতে। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ জানাচ্ছি দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য। বিশেষ করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেনকে নগরবাসীর পক্ষ থেকে অান্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি মেয়র কামরানের স্মৃতি ধরে রাখতে এই প্রস্তাব উপস্থাপনের জন্য।
শুধু চত্বর নয় উনার স্মৃতির জন্য আরও অনেক কিছু করার আহবান জানাচ্ছি মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সকল কাউন্সিলর এবং সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে। আবারও অসংখ্য ধন্যবাদ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেনকে সুন্দর প্রস্তাবনার জন্য।

অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
লেখক ও কলামিস্ট

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© ২০১৭ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - সিলনিউজ২৪.কম
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web