Monday, 16 September, 2019

ফেঞ্চুগঞ্জের মিনি কক্সবাজারে অব্যবস্থাপনা, হারাতে পারে পর্যটক


ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি:: বাংলাদেশের চট্রগ্রাম কক্সবাজার পরেই মিনি কক্সবাজার নামে খ্যাত সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া এলাকায় হাকালুকি হাওর। দিগন্ত জুড়া উত্তাল জলরাশি আর হিমেল হাওয়া! পর্যটকদের মন টানে এই মিনি কক্সবাজার। এখানকার প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিজেকে উদারভাবে মেলে ধরে উত্তাল হাওরের বুকে।

হাওরের একদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ আরেক দিকে কুলাউড়া -বড়লেখা অন্য পাশে গোলাপগঞ্জ উপজেলা। বিশাল এলাকাজুড়া বিস্তৃত এ পর্যটন এলাকা দেশব্যাপী পর্যটক টানলেও সম্প্রতি কিছু অব্যবস্থাপনা পর্যটকদের বিড়ম্বনা বাড়াচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় শত শত পর্যটক মুখরিত এ জিরো পয়েন্টের শোভাবর্ধনের জন্য জেলা পরিষদ এখানে ঘাটলা নির্মান ও পাকা বেদি নির্মান করলে নির্মিত হয় নি কোন পাব্লিক টয়লেট। যে কারনে এখানে আসা শত শত পর্যটক পড়েন বিপাক বিড়ম্বনায়। বিশেষ করে সমস্যায় পড়েন নারী পর্যটকরা। জরুরি সময়ে উপায়ন্তর না দেখে স্থানীয়দের দ্বারস্থ হয়েই কারো বাসা বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘদিন থেকে এ ভাবে চলায় বিরক্ত হচ্ছেন আশপাশের স্থানীয় বাড়ির লোকজন। আজকাল টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ দিতে অনীহা তাদের। অন্যদিকে পর্যটকদের ব্যবহৃত গাড়ি রাখা দিয়ে দেখা দিয়েছে প্রকট সমস্যা। জিরো পয়েন্টে প্রচুর সরকারি জায়গা থাকা স্বত্বেও নেই কোন পার্কিং ব্যবস্থা! দূর দুরান্ত থেকে পর্যটকরা গাড়ি নিয়ে এসে পড়েন আরেক বিড়ম্বনায়।

ঈদ উপলক্ষে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এখানে কিছু পার্কিং শৃংখলা দেখালেও তা অকার্যকর অপর্যাপ্ত। সরেজমিনে দেখা যায়। জিরো পয়েন্টে গড়ে উঠা বাজারের অধিকাংশ দোকানই সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা। অনেক দোকান পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বাজারের একজন দোকানদার জানালেন, ব্যবসা করার জন্য শুধু জায়গাটা দখলে রাখার জন্য নামমাত্র দোকান তৈরি করে রাখা হয়েছে! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় যুবনেতা বলেন, এখানকার অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে দিলে পার্কিং সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। সিলেট শহর থেকে আসা পর্যটক শাকিল জামান ও জাহেদ চৌধুরী বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে আসি কিন্তু এখানে টয়লেট ও পার্কিং এর যে এত বড় সমস্যা তা ভাবা যায় না। পর্যটক আল-মাহমুদ বলেন, পরিবার নিয়ে মোগলাবাজার থেকে এসেছি।।কিন্তু নিজে প্রস্রাব করার জায়গা পাচ্ছি না। একে তো পর্যটন এলাকা তার উপর পাশেই একটা মাজার! যে কারনে যে কোন জায়গার দাড়াবারও উপায় নেই। খুব বিব্রতকর অবস্থা! পর্যটকরা বলেন হাতের কাছেই এত সুন্দর জায়গায় এত বড় অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়। এতে আগামীতে পর্যটক বিমুখ হতে পারেন। অন্য দিকে আছে মৌসুমি মাইকের উৎপাত। ঈদের সময় এখানে মাইক লাগিয়ে উচ্চস্বরে গানবাজনা ও প্রচার হয়। ছোট্ট পরিসরের জিরো পয়েন্টে মাইকের বিকট আওয়াজে বিরক্ত হোন পর্যটকরা।

১৬ আগস্ট সরেজমিনে শুনা গেল মাইকের ধামাকা হিন্দি গানের কর্কশ শব্দ দূষণ। অথচ ঈদ উল আযহার সময় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন নিজে গিয়ে মাইকে গানবাজনা নিষেধ করে আসলেও তা মানা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে পর্যটনের সম্ভাবনাময় এই মিনি কক্সবাজার পর্যটক হারাতে পারে বলেই অনুমেয়। এসব অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে । এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। উপজেলা পরিষদ এবং সকলের সহযোগিতা নিয়ে এখানে পার্কিং সমস্যা এবং টয়লেট সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা খুব শীঘ্রই প্রকল্প নিয়ে তা বাস্তবায়ন করব।

জায়গা দখলের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হবে । যদি সত্যিকার অর্থে কেউ সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে থাকে সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সরকারি জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুকে সিলনিউজ২৪